নীলফামারীর ডোমারে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের মুসলিম জনতা। বিক্ষোভ শেষে ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাতের ঘটনায় ৪ দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন বিক্ষোভকারীরা। সোমবার (৫ মে) সকাল ১০টায় ডোমার বাটার মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেল ঘুন্টি মোড়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লি, স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনতা, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ডোমার উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. সোহেল রানা, শ্রমিক নেতা জাকিরুল ইসলাম বাবলু, মাওলানা আকরামুজ্জামান হিরোন, মাওলানা কামরুল ইসলাম আরেফী, মাওলানা আবু সাঈদ, নুরুল ইসলাম বাবলা, অর্ণব আহমেদ আলিফসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “বিশ্বনবীর অপমান কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমরা তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবো।” চার দফা দাবী হলো, কটুক্তিকারী বিজয় দাসের দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) কার্যকর করা। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। নবীপ্রেমিকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। তারা আরও বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তি বা ধর্ম নয়—আমাদের ঈমান, আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এর জবাব দেব, কিন্তু প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, তদন্তপূর্বক দোষীকে শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটুক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে গত শুক্রবার হরিনচড়া ইউনিয়নের হরিহারা গ্রামের শ্রী সুরেশ দাসের ছেলে শ্রী বিজয় দাস (২৪) ও শেওটগাড়ি জাবেদ আলীর ছেলে গোফরান আলী বুলু(৪৫)-কে রবিবার গ্রেফতার করে আদালতে পাঠান ডোমার থানা পুলিশ।