এস এম নওশের: | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৯৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আপনি যুদ্ধ চান না। আপনি শান্তিকামী। আমিও তাই। আপনার সাথে আমি আছি।তবে যুদ্ধকে প্রতিরোধ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে—যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা। নিজের মিলিটারি ডিফেন্সকে শক্তিশালী করা।
আপনি যতই যুদ্ধবিরোধী হোন, যত শান্তি চান না কেন, ততই আপনাকে শক্তি অর্জন করতে হবে।
কারণ, আপনার শক্তিই ঠিক করে দেবে অন্যরা আপনাকে ঘাঁটাবে কি না।
শান্তিপ্রিয়তার ভণ্ড মুখোশ যখনই আমরা যুদ্ধ প্রস্তুতির কথা বলি, তখনই আমাদের দেশে এক বিশাল সংখ্যক তথাকথিত “মানবদরদি” আবির্ভূত হন।
ছলছল চোখ, কোমল কণ্ঠ আর নাদান মুখে তারা বলেন—”যুদ্ধ চাই না, যুদ্ধ ঘৃণা করি, অস্ত্র নয়, ফুল চাই।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফুল দিয়ে কি পৃথিবীতে কখনো শান্তি এসেছে?
উদাহরণ: ভারত, চীন ও বাংলাদেশ
পাকিস্তান আর চীন—ভারতের চরম শত্রু রাষ্ট্র। তবুও চীন সীমান্তে শান্তি বিরাজ করছে।
কেন? কারণ চীনের শক্তি ভারতকে সাবধান করে রেখেছে।
চীন লাদাখ ও অরুণাচলের অংশ দখল করে রেখেছে। তবুও ভারত কিছুই করতে পারছে না। কারণ চীনের সাথে টক্কর নেওয়ার শক্তি ও সাহস নেই।
অন্যদিকে, ভারতের যখন খুশি, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা করে। কারণ তারা জানে, বাংলাদেশ পাল্টা আঘাত করতে পারবে না।
শান্তির পেছনে থাকে ভয়
শান্তি অর্জনের মূল শর্ত—ভয় সৃষ্টির ক্ষমতা।
এই পৃথিবীতে যুদ্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ দেশগুলো হলো: আমেরিকা ও ইউরোপ।
তাদের এত শক্তি আছে যে, কেউ সহজে আক্রমণ করার সাহস পায় না।
জাপানের নিজস্ব সেনাবাহিনী না থাকলেও, আমেরিকার ছাতার নিচে তারা শান্তিতে আছে।
আপনি রাতে কতটা শান্তিতে ঘুমাবেন, তা নির্ভর করে আপনার দরজার তালা কতটা মজবুত।
চোর আসবে কি না—তা নির্ভর করে আপনার ঘরের প্রটেকশন কেমন।
শান্তির জন্য ভয় দেখাতে শিখুন
প্যালেস্টাইন ইজরায়েলকে আক্রমণ করে। ইরানকে বা তুরস্ককে নয়। কেন?
কারণ তারা জানে, ইরান বা তুরস্কের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হতে পারে।
শুধুমাত্র ভয়ই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।
যেসব তুলসী-তলা টাইপের শান্তিপ্রেমীরা যুদ্ধ শুনলেই হাত নেড়ে বকবক করেন, তাদের কাছেই শান্তির সবচেয়ে বড় বিপদ।
এই অঞ্চলে বাংলাদেশের অশান্তি করার ক্ষমতা যত বাড়বে, ততই আমরা শান্তিতে থাকতে পারব।
শেষ কথা: প্রস্তুত থাকুন, কবিতা নয় অস্ত্রের শক্তি দিন
এক হাজার কবিতা আর শান্তির পায়রা উড়িয়ে কোনো লাভ হবে না—যতক্ষণ না আপনার হাতে শক্তি আছে।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি।
যারা বলেন—”ভারত যুদ্ধ করবে না”—তাদের প্রশ্ন করুন: যুদ্ধ লেগে গেলে তখন কী করবেন?
একটি কৌতুক ও একটি শিক্ষা
দুই বন্ধু হাঁটছে। একটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে।
একজন ভয় পেয়ে যায়, আরেকজন বলে—”A barking dog seldom bites।”
ভীতু বন্ধু বলে—”তুই জানিস, আমি জানি, কিন্তু কুকুরটা কি জানে?”
তাই কুকুর কামড়াবে কি না, সে বিশ্লেষণে না গিয়ে, নিজের মুগুরটা প্রস্তুত রাখুন।
যাতে কেউ কামড়াতে এলে, এক বাড়িতে দাঁত ভেঙে দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারেন—ভুল জায়গায় কামড়াতে এসেছ,এখন যা ফুট।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com