শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

যে কারণে নাটাই গ্রামে দুই গোষ্ঠি মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও খুন

শফিকুল ইসলাম বাদল   |   শনিবার, ২৪ মে ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৪৩৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যে কারণে নাটাই গ্রামে দুই গোষ্ঠি মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও খুন

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা সদরের নাটাই (উঃ) ইউনিয়নের নাটাই গ্রামের দুই গোষ্ঠি সলিম বাড়ি ও চান্দের বাড়ির মধ্যে গত ১২ ‘ই মে থেকে ১৫’ই মে দুপুর পর্যন্ত ভয়াবহ দাঙ্গা, খুন, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ দাঙ্গা ও খুনের ঘটনা দৃষ্টি কেড়েছে দেশবাসীর। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানার চেষ্টা করা হয়েছে এই ভয়াবহ দাঙ্গা ও খুনের নেপথ্যের কারণ, সরেজমিন অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।চান্দের বাড়ি এবং সলিম বাড়ির মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘ দিনের। কিন্তু এবারের দাঙ্গা ও খুনের ঘটনার পেছনের কারণ ভিন্ন। জানা যায়,গত ৫’ই আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সলিম বাড়ির সাইফুল ইসলাম মুন্নাকে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হওয়ায় ধাওয়া দিয়ে পার্শ্ববর্তী তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম গ্রামে আটক করে ছাত্র জলতা।

এসময় চান্দের বাড়ির তুহিন যেকিনা নাটাই (উঃ) ইউনিয়ন যুবদলের কারা নির্যাতিত কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলো। ছাত্রজনতার সামনে কানধরে মুন্না ওয়াদা করে সে ছানলীগের রাজনীতি আর করবেনা, যার ফলে ছাত্রজনতা তাকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই মুন্না তুহিনকে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এর কয়েক মাস পরে তুহিনের চাচাতো ভাই কেফাই তার বাড়ির পাশে ইয়াবা সেবনে সলিম বাড়ির শাহেদ মিয়ার ছেলেকে বাধা দিলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা কর পরিস্থিতি তৈরী হয়। যার সুযোগ নিয়ে সাইফুল ইসলাম মুন্না ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের আরও কয়েকজনকে নিয়ে শহরের টেংকের পাড়ে তুহিন ও তার অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীর উপর অর্তকিত হামলা করে তুহিনের পা ভেঙে দেয়। এ ঘটনায় তুহিনের স্ত্রী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা দায়ের করলে তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে থাকে।

১২’ ই মে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য সলিম বাড়ির আনার চাপ প্রয়োগ করলে মারামারির সূত্রপাত ঘটে।সলিম বাড়ির কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়়ে তুহিনের আপন চাচাতো ভাই দিপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ গুরুতর জখম অবস্থায় দিপুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় দাঙ্গা, খুন হন মিয়াজুল,ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বাড়িঘর। ১২৯ জনের নামে হয় হত্যা,অপহরণ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা।এ বিরোধের প্রথম থেকে খুন হওয়া পর্যন্ত তুহিনের চাচা মিয়াজুল চান্দের বাড়ির কাজী মোবারক হোসেন, চান মিয়াসহ স্থানীয় বিএনপি, হেফাজতকে সাথে নিয়ে বিরোধ মেটানোর অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু সলিম বাড়ির লোকজন কোনভাবেই সমাধানে আসতে রাজি হয়নি ৷

এব্যাপারে যুবদল কর্মী তুহিন বলেন… ৫’ ই আগস্টের পর অষ্টগ্রাম গ্রামে ছাত্রলীগের মুন্না ও মাসুদকে আটক করে কানে ধরে উঠবস করায় ছাত্রজনতা, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম। এরপর থেকে তারা আমাকে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এর কয়েক মাস পর সলিম বাড়ির শাহেদ মিয়ার ছেলে বাবা খাইতে আসলে আমার চাচাতো ভাই কেফাই বাধা দিলে সে দৌড়ে পালাতে গিয়ে হোচট খেয়ে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পায়। এই ঘটনায় সুযোগ নিয়ে রোজার ঈদের পর ৫ তারিখ আমি আমার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে শহুড় বাড়ি যাওয়ার পথে টেংকের পাড়ে তরমুজ কিনতে গেলে ছাত্রলীগের মুন্না সলিম বাড়ির ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের আরও ১০/১৫ জনকে নিয়ে আমার ও আমার ওয়াইফ এর উপর হামলা করে, আমার পা ভেঙে ফেলে, পায়ে রড বসিয়ে দেড় মাস হাসপাতালে থাকি। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করলে তারা হুমকি ধামকি দেয় মামলা প্রত্যাহার করার জন্য। এবং তাদের বাবা কেনাবেচাও চলতে থাকে, গোলাপ মিযার পুত হাসান ওপেন বাবা বিক্রি করে যাচ্ছে।

তুহিন আরও জানান, গত ১২ তারিখ সলিম বাড়ির আনার মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে মারামারির সূত্রপাত হয়l তারা আমার চাচাতো ভাই দিপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অপহরন করে নিয়ে যেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করতে থাকলে পুলিশ যেয়ে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। এরপরেই তারা আমার চাচা মিয়াজুলকে খুন করে।তিনি আরও জানান, আমার চাচা মিয়াজুল ঘটনার প্রথম থেকেই আমাদের বংশের সর্দার কাজী মোবারক হোসেন ও চান মিয়াকে সাথে নিয়ে ঝামেলার সমাধান করার অনেক চেষ্টা করে গেছেন। তিনি বিএনপি, হেফাজত নেতাদের কাছে পর্যন্তও গেছেন, কিন্তু শেষ করতে না পেরে আজ তিনিই খুন হয়েছেন। আমি ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী, সৈরাচার আওয়ামীলীগ দ্বারা কারা নির্যাতিত, আমিও বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে এটা সমাধান করার চেষ্টা করেছি।মৃত মিয়াজুলের স্ত্রী বলেন,আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারী কামাল, জুবায়ের,মাসুদ, আবু বক্কর সহ সকল হত্যাকারীদের ফাসি চাই।

মৃত মিয়াজুলের মেয়ে আশা বলেন, আমার বাবা প্রথম থেকেই দরবার শেষ করার চেষ্টা করে গেছেন, কিন্তু সলিম বাড়ির এরা রাজি হয় নাই, তারা মাডার করতে চাইছে, আমার বাবাকে মাডার করছে। আমি সবার বিচার চাই।দিপুর মা বলেন, আমার ছেলে কাজ থেকে ফিরে আসা মাত্রই তাকে ককটেল ফুটিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। নির্মমভাবে তাকে মারা হয়। আমি সবার বিচার চাই। মিয়াজুল হত্যা মামলার বাদী আপন ছোট ভাই সাহাজুল বলেন, আমার ভাই প্রথম থেকেই সবাইকে নিয়ে দরবার শেষ করার চেষ্টা করছে। ইউনিয়ন বিএনপি, থানা বিএনপি এমনকি হেফাজত নেতাদের কাছেও আমার ভাই গেছে, কিন্তু সলিম বাড়ির এরা সমাধানে রাজি হয় নাই। আজকে আমার ভাইকেই হত্যা করা হলো, আমি এর বিচার চাই।সলিম বাড়ির সাইফুল ইসলাম মুন্না, মাসুদ, কামাল মিয়়া সহ অভিযুক্ত কয়েক জনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায় নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়। এরপর প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনায়ই পৃথক মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com