মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ | মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ৩২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মনিরামপুরে SAFAL for IWRM প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ে মাইক্রো ওয়াটারসেডের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মডেল অবহিতকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৭শে মে মঙ্গলবার রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও এর সহযোগী সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত SAFAL for IWRM প্রকল্পের আওতাধীন মাইক্রো ওয়াটারসেডের (খাল) পুন:খনন নিমিক্তে উপজেলা পর্যায়ে মাইক্রো ওয়াটারসেডের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মডেল অবহিতকরণ বিষয়ক কর্মশালা মণিরামপুর উপজেলা সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। SAFAL for IWRM এর যশোর অঞ্চলের ম্যানেজার কৃষিবিদ ড. নাজমুন নাহার এর সভাপতিত্বে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
কর্মশালার শুরুতে ড. নাজমুন নাহার প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের উপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। প্রকল্প শেষে তিনি প্রকল্পের কর্ম এলাকায় কি ধরণের পরিবর্তন আসবে তা ব্যাখ্যা করেন।
মাইক্রো ওয়াটারসেডের সুশাসন বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের ভূমিকা এবং সেচের পানির নায্যতা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা সম্পর্কে কর্মশালায় উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস-সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া। কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌসের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মো: সাইফুল ইসলাম-উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী মো: ফয়সাল আহমেদ-উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি, মণিরামপুর যশোর, মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন- উপসহকারী প্রকৌশলী, বিএডিসি, মণিরামপুর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের ৬ জন ইউপি চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ৯টি মাইক্রো ওয়াটারসেডের কমিটির প্রতিনিধিগন। অহিদ গাজী- সাধারণ সম্পাদক, গাজীর খাল মাইক্রো ওয়াটারসেড বলেন, গাজীর খাল পুন:সংস্কারের ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ফসল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক উপকৃত হয়েছে তবে প্রতি বছর কচুরিপানা জন্মে যা ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় বাসিন্দার সহযোগীতায় পরিস্কার করা সম্ভব। সে জন্য তিনি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সহযোগীতা কামনা করেন।
ওবায়দুল হক- সভাপতি, সুবলকাটি হালদার খাল মাইক্রো ওয়াটাসেড বলেন, খালটি পুন:খননের ফলে এতই জনগন উপকৃত হয়েছে যে আরোও ৪০০ ফুট খনন করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রমেন্দ্রনাথ বালা- সভাপতি, নলডাঙ্গা খাল মাইক্রো ওয়াটারসেড বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই খালে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে, সেজন্য বর্ষার আগে ২-৩ মাস যদি মাছ ধরা বন্ধ রাখা যায় তার জন্য ইউনিয়ন ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। যদি সেটা করা যায় তাহলে বর্ষা মৌসুমে যারা মাছ ধরবে তাদের থেকে কিছু অর্থ নিয়ে খালের ব্যাংক একাউন্ডে জমা রাখা যা পরবর্তিতে খাল রক্ষণাবেক্ষণের কাজে লাগানো যাবে।
পুন:খননকৃত খালের উপকারিতা ও নতুন খালের পুন:খননের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন এস এম আক্তার ফারুক মিন্টু- মেয়ারম্যান, ১৭ নং মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ। তিনি বলেন সলিডারিডাড ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন যে মহৎ উদ্যোগ গ্রহন করেছে তা প্রসংশার দাবিদার এবং আমাদের সকলের উচিত তাদেও পাশে থেকে সহযোগীতা করা।
প্রকৌশলী মো: ফয়সাল আহমেদ- উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি, মণিরামপুর বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর উত্তম উপায় খাল, নদী পুন:সংস্কার করা। খাল গুলো টেকসইকরনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং উপজেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষথেকে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করা হবে বলে জানান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মো: রুবেল আলী ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার শেখ মনিরুল ইসলাম ও মণিরামপুর টিমের SAFAL for IWRM প্রকল্প অফিসের সকল কর্মকর্তা বৃন্দ।
সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com