শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নবীনগরে ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং শব্দে মুখরিত কামার পল্লী

শফিকুল ইসলাম বাদল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)জেলা প্রতিনিধি:   |   রবিবার, ০১ জুন ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৪৯৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নবীনগরে ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং শব্দে মুখরিত কামার পল্লী
১৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শ্রীঘর বাজারে কামাল মিয়া নামে একজন ক্রেতা বলেন- কুরবানীর কাজে ব্যবহৃত ছুরিসহ চারটি জিনিস মেরামতের জন্য এনেছি। কুদ্দুস মিয়া নামে আর এক ক্রেতা জানান- আমি একটি চাপাতি ৬০০ টাকায় কিনেছি। শ্রীঘর বাজারের আরো কয়েকজন ক্রেতা জানায়- কুরবানির ঈদের সময় কসাই পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই একটা নতুন বটি কিনেছি, আর পুরানো চাপতি, দা ধার (শাণ) দিয়ে নিচ্ছি নিজেরাই কাজে লেগে যাব।

বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে দেখা গেছে ঈদ যতই এগিয়ে আসছে দা,ছুরি কিনতে গ্রাহকদের আনাগোনাও বাড়ছে। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- কুরবানির ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। তবে ঈদের দুদিন আগে থেকে রাত-দিন বেচাকেনা হবে। কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়ে গেছে। দুই মাস আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিল ৪০০- ৪৫০ টাকা। সেই কয়লা এখন ৭৫০- ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই তারা চাপাতি, ছুরি,দা’র দাম একটু বেশি নিচ্ছে।

ভোলাচং, সোহাতা,শ্যামগ্রাম ,কাদৈর, শ্রীঘরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও কামার পাড়া ঘুরে দেখা যায়- লাল আগুনের লোহায় পিটুনিতে সরগরম হয়ে উঠেছে কামার পল্লী/দোকান গুলো। টুংটাং শব্দের ছন্দে তালমিলিয়ে চলছে হাতুড়ি আর ছেনির কলাকৌশল। কামার শিল্পের সাথে জড়িত সোহাতার সুমন কর্মকার জানায়- ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আমাদের গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। সুমন আরো জানায়- নবীনগর উপজেলা ছাড়াও দুরদুরান্তের ব্যবসায়ীরা পাইকারী মালামাল এখান থেকে নিয়ে যায়।

ঈদে বিপুল চাহিদার জোগান দিতে এক মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি আমরা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামারদের বানানো লোহার তৈরি জিনিসপত্র নিজেরাই বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। নবীনগর পৌর শহরের বড় বাজারে সাপ্তাহিক হাটে দোকান সাজিয়ে বসেন কামারীরা। এ সব পন্য কিনতে ক্রেতাদের ভীড় চোখ পড়ে।

হাটবাজার ছাড়াও ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছে কামার পট্টিতে। কামার শিল্পীরা জানান- পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ – ২০০, দা ২০০ – ৩৫০ টাকা, বটি ২৫০ – ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ – ১০০০ টাকা, চাপাতি ৫০০ – ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পৌর এলাকার ভোলাচং গ্রামের সৌরভ কর্মকার জানায়- কাজের ব্যস্থতায় নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। টুংটাং শব্দের ছন্দে তালমিলিয়ে হাতুড়ি আর ছেনির কলাকৌশলের এ ব্যস্থতা থাকবে ঈদুল আজহার আগের দিন পর্যন্ত।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com