আনোয়ার হোসেন, | শনিবার, ০৭ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | ৩২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। চিরায়ত এ কথার গভীরেও গোপন থাকে যায় গরিবের কষ্টগাঁথা জীবনের গল্প। তাইতো উৎসবের এ বিশেষ দিনেও তাদের দাঁড়াতে হয় বিত্তবানদের দুয়ারে। হাত পাততে হয় দু-এক টুকরো কোরবানির মাংসের জন্য। এ সময় খেতে হয় কারো ধমক, কারো বা তাড়া, কারো বিশেষ কোনও মন্তব্য। এ জন্য হতে হয় বিব্রত ও অপমানিত। কিন্তু তারা অপরাগ। পকেটের টাকায় মাংস কেনার সাধ্য নেই। এ কারণেই ঈদের দিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করেন কোরবানির পশুর মাংস। সরেজমিনে গাইবান্ধার পাড়া মহল্লাসহ শহরের অলিগলিতে ঘুরে দেখা যায় মাংস নিতে আসা নিম্নবিত্ত তথা দরিদ্র মানুষের জটলা। গ্রাম থেকে শহরে মাংস নিতে আসা বৃদ্ধা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ।
কোরবানির ঈদে আমাদের একটা হক আছে। কিন্তু বড়লোক মানুষ অনেকেই এটা মানতে চায় না। বাড়ির সামনে গেলে ফিরিয়ে দেয়। আবার কখনো কেউ ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।’ বাজারে মাংসের দাম বেশি। তাই বছরে এক দিনও গরুর মাংস কেনার সামর্থ্য হয় না। আমরাও মানুষ। আমাদেরও খেতে ইচ্ছে করে। তাই এক টুকরো মাংসের আশায় ঈদের দিনে ব্যাগ নিয়ে শহরে এসেছি।’ আরিফ নামের এক শিশু বলেন, ‘আমরা যেখানে ভালোভাবে এক বেলা খেতেই পাই না, সেখানে গরুর মাংস খাওয়া তো স্বপ্নের ব্যাপার। মাংস সংগ্রহ করতে এসেছি। যা পাব, বাড়িতে নিয়ে মা-বাবাকে নিয়ে একবেলা খাব।’ মাংস সংগ্রহ করতে এসে ছামছুল মিয়া বলেন, ‘বড়লোকদের দরজার সামনে গেলে তাঁরা অনেকে মাংস দিতে চান না।
কেউ কেউ মাংস নেই বলে আমাদের ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেন।’ লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘অনেক দরিদ্র মানুষ সারা বছর কোরবানির ঈদের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এই ঈদে তাদের স্বপ্ন জাগে এক বেলা গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেতে। তাই একটু সহানুভূতি দেখিয়ে কোরবানির পশুর মাংসের একটি অংশ এসব মানুষকে দেয়া উচিত।’
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com