নরসিংদী প্রতিনিধি: | বুধবার, ১১ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫৩৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নরসিংদীর মনোহরদী কুখ্যাত দালাল-প্রতারক ও আওয়ামী লীগের দোসর কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ রূপ নেয় গণপ্রতিরোধে, যেখানে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিহত করা হয় এই ইয়াবা ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও ছদ্মবেশী সাংবাদিক পরিচয়ধারী এই শরিফুল ইসলাম শাকিলকে। এই শাকিল মাধবদীতে জুলাই অন্দোলনের সময়ে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেই। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিন্তু সে মামলার পরও তার চাঁদাবাজি অব্যাহত রাখে। দান করার কথা বলেও টাকা হাতিয়ে নিতো প্রবাসী লোকজনের কাছ থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিল আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিত। আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন কে সে চাচা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অফিস আদালত চষে বেড়াতো।
এসব অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার পাশাপাশি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো। বিভিন্ন সময়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রীর ভাতিজা হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর থেকে বিভিন্ন লোকজনকে শিল্প কারখানাসহ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন করিয়ে দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিতো লাখ লাখ টাকা। এছাড়াও সাবেক শিল্পমন্ত্রীর ছেলে আওয়ামী লীগের আরেক দোসর সাদীর ডান হাত নামেও পরিচয় ছিলো এই শাকিলের। বিতর্কিত সাদীকে যেখানে মনোহরদী-বেলাবর মানুষ প্রতিহত করার চেষ্টা করতো কিন্তু সেই সময় এই শাকিলই সাদীকে মানবতার ভাইজান হিসেবে মানুষের কাছে পরিচয় দিতো। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি এবং প্রতারণা করে আসছিল। সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রথমে মোটা অংকের টাকা দাবি করতো। তার সাথে কারো মতের মিল হলে ফেসবুকে এলাকার শ্রেষ্ট মানুষ বলে স্টেটাস দিতো। আবার কিছুদিন পর তার চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে ফেসবুকেই বিভিন্ন কুৎসা রটনা করতো।
এসব কর্মকর্তার ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কিছু বিতর্কিত নেতা, বিশেষ করে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ূনের ছেলে সাদীর সাথে তার সখ্যতার কথাও উঠে এসেছে এলাকাবাসীর অভিযোগে। সে মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা আরো জানান, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই তার নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করে। স্থানীয় বিএনপির সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেন বকুলকেও সে কাকা বলে পরিচয় দেয়। শেখ হাসিনা পালানোর পর বিদেশে পালিয়ে যায় শিল্পমন্ত্রীর ছেলে সাদী। গ্রেফতার হন সাবেক শিল্পমন্ত্রী হুমায়ূন।
অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন প্রতারক শাকিল। উপায় না পেয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে। পরে বিএনপি পরিচয়ে কাজ না হওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নামে চলাফেরা করত। সেটাও সুবিধা করতে না পেরে সংবাদিক তকমা লাগান। কিন্তু সুবিধা করতে না পেরে স্থানীয় কিছু উৎঠতি বয়সের ছেলে মেয়ে নিয়ে গড়ে তোলেন নামসর্বস্ব একটি সাংবাদিক সংগঠন। এই সংগঠনের নামে আবার চালাতো চাঁদাবাজির উৎসব। অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় ছাত্র ও সাধারণ মানুষের। ১১ জুন দুপুরে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। এরপর আরো কিছু ছাত্রজনতা জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ধরে এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তুলে ধরে মুখোশ খুলে দেয় জনতার সামনে। চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাকে গণধোলাই দেয়।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com