মা তুমি পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে আর ফিরে এলেনা। শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছো মাটির নিঃশব্দ এক কোণে কিন্তু রেখে গেছো শত প্রশ্ন, গভীর হাহাকার, তোমরা ওপাড়ে ভালো থাকো। অবুঝ প্রিয় শিশু সুবাইতার মৃত্যুতে তার মায়ের এমন আহাজারিতে আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠে। এ যেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা । গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ গ্রামে। শিশু সুবাইতা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পশ্চিম দামোদরপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামের মেয়ে। স্থানীয়রা জানায়, সুবাইতা তার মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ গ্রামে বেড়াতে এসেছিল।
গতকাল বিকেলে শিশু সুবাইতা তার সহপাঠী একই গ্রামের রাব্বিবুলের শিশু মেয়ে মামাতো বোন রুকাইয়াকে নিয়ে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এক পর্যায়ে তারা বাড়ির সবার অজান্তে চলে যায় পেছনের পুকুরপাড়ে। কিছুক্ষণ পর পাশের বাড়ির অপর এক শিশু পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে খবর দেয়। পরে স্বজনরা পুকুরে গিয়ে ওই দুই শিশু সুবাইতা ও রুকাইয়ার মরদেহ খুঁজে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি জানা-জানি হলে দুই শিশুকে এক নজর দেখতে হাজারও নর-নারীর ভীড় জমে সর্বানন্দ গ্রামের সুবাইতার নানার বাড়িতে। এ সময় সুবাইতা ও রুকাইয়ার পরিবারের শোক প্রকাশ পায় তীব্র কান্না, আর্তনাদ, এবং সন্তানের জন্য একরাশ হাহাকারের মধ্যে দিয়ে। এ যেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা।
দুই শিশুর মৃত্যুতে কাঁপিয়ে উঠে পরিবারসহ স্বজনদের অন্তর। সবার চোখে অশ্রু, মুখে অসহায় প্রশ্ন “রুকাইয়া ও সুবাইতা তোমরা কেন এভাবে চলে গেলে? জানি তোমাদের ঘুম ভাঙ্গবে না, রেখে গেলে শুন্যতা, তোমরা ওপাড়ে ভালো থাকো।” সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, “পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। পরিবারে বইছে শোকের মাতম। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।” সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।” এলাকাবাসী বলছেন, এই শোক কেবল কারো একার নয়, বরং দু’টো পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই শোকে কাঁদছে দু’টি পরিবার, কাঁদছে দু’টি গ্রাম। অবুঝ শিশু সুবাইতা ও রুকাইয়া আর কখনো ফিরে আসবেনা কিন্তু তাদের হাসি, তাদের স্বপ্ন থেকে যাবে সবার হৃদয় পটে।