আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৭১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
একসময় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গ্রামীণ জনপদে ছিল দূর্ভোগের করুণ চিত্র। বর্ষার সময় ভাঙাচোরা আর কাদামাখা রাস্তা ছিল এখানকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু সরকারের গৃহীত টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের মাধ্যমে সেই দুর্ভোগের চিত্র এখন পাল্টে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়নমূলক নানা কর্মকাণ্ডে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে যেন নবজাগরণের ঢেউ লেগেছে, যা মানুষের জীবনযাত্রায় আনছে স্বস্তি ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানাগেছে, সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট ২৪৯টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে টিআর ১৩৫টি বরাদ্দের অনুকুলে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৮ হাজার টাকা, কাবিটার ৭৬টি বরাদ্দে ২ কোটি ৫৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং কাবিখার ৩৮টি বরাদ্দের অনুকূলে ১৬৯.৮৬ মেঃ টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পগুলোর কাজ ৩০ জুন/২০২৫ইং তারিখে শেষ হয়। এ সব প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা সংস্কার, ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়ন, কবরস্থান, মন্দিরসহ সংস্কারের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

এসব প্রকল্পের সুফল এখন সরাসরি গ্রামের সাধারণ মানুষ ভোগ করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারের জনবান্ধব প্রকল্পগুলো সাঘাটার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাদের বিশ্বাস, উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে উপজেলার সামগ্রিক চিত্র খুব দ্রুত আরও বদলে যাবে। উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আলাই নদীর ব্রীজ হতে খায়রুলের বাড়ি অভিমুখী রাস্তা সংস্করণ ও সিসিকরণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, আগে বর্ষায় এ রাস্তায় পানি জমে কর্দমাক্ত হতো। মানুষকে কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হতো। এখন রাস্তা সংস্কারের পর সেই কষ্ট আর নেই। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছে।
এই পরিবর্তন শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমায়নি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি এনেছে। গৃহবধূ রোকসা বেগম বলেন, বর্ষায় আমার বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া-আসার সময় কাদায় পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় ছিল। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় তারা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারছে। যোগাযোগে নতুন দিগন্ত মুক্তিনগর ইউনিয়নের কুখাতাইর গ্রামের জলিলের বাড়ি হতে মোজাম্মেলের বাড়ি অভিমুখী রাস্তা সংস্করণ ও সিসিকরণ এতে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি আহসান আলী জানান, রাস্তাটি সংস্করণ হওয়ায় এলাকার মানুষের জন্য অনেক উপকারে এসেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান বলেন, সবার সহযোগিতা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজগুলো সম্পন্ন করেছি। কাজের মান ও গতি ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর মোঃ আল কামাহ্ তমাল জানান, আমি নিজে অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি কাজই মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় অর্জন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com