শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

কুলিয়ারচরে শিক্ষিকাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় মামলা, বিচার দাবীতে তোলপাড়

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:   |   বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৪৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কুলিয়ারচরে শিক্ষিকাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় মামলা, বিচার দাবীতে তোলপাড়
১৩

র কুলিয়ারচরে এক শিক্ষিকাকে অফিসকক্ষে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের বড়চর মোহাম্মদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বিলকিস আক্তার সোমা ও তার স্বামী পার্শ্ববর্তী রামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. এনামুল হকের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ভুক্তভোগী রামদী ইউনিয়নের বড়চর মোহাম্মদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিতালি চক্রবর্তী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- ০৩। এ ঘটনার বিচার দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের ভেতরে মিতালি চক্রবর্তীর সঙ্গে সহকর্মী বিলকিস আক্তার সোমার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সোমা তার স্বামী এনামুল হককে খবর দেন। পরে এনামুল হক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে গিয়ে সহকর্মী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মিতালি চক্রবর্তীর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বামী শশাংক গোস্বামী চয়ন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেও মারধরের শিকার হয়।

ঘটনার পর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি সাময়িক ভাবে মীমাংসা করলেও ভুক্তভোগী শিক্ষিকা দাবি করেন, তিনি নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি পাচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হন।

অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্ত্রীর সঙ্গে সহকর্মীর বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে আমার বিরুদ্ধে যে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ওইদিনই (বৃহস্পতিবার) থানায় মামলা রুজু করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে আজ ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল আলীম রানা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার (প্রাথমিক) কার্যালয়ে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ স্বাক্ষীদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয়েছে। বড়চর মোহাম্মদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওইদিন ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন, তাই তার প্রতিবেদন দাখিলের পর আগামী রোববারের মধ্যে এ ঘটনার দৃশ্যমান বিচার করা হবে।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এ পর্যন্ত আমার নিকট লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। অন্যের মাধ্যমে শুনে গতকাল বুধবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য। তিনি তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মিতালির জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com