আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্রতিভা কোনো সীমাবদ্ধ সিদ্ধিতে সন্তুষ্ট থাকে না, অসন্তোষই তার জয়যাত্রা পথের সারথি’ বলছিলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সরকারি অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জনগণের রয়েছে অনেক অভিযোগ। এর মধ্যে ব্যতিক্রম কর্মোদ্যম, সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও রয়েছে।
যারা লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন জনবান্ধব ও বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থল। তেমনই একজন ব্যতিক্রম সরকারি কর্মকর্তা গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান। তিনি শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তাই নন, জেলার স্বাস্থ্যসেবার স্তম্ভ। মূলত জেলার সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, প্রতিরোধমূলক ও নিরাময়মূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এবং স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করছেন জেলার জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
চলতি ২০২৫ সালের ৬ মার্চ তিনি গাইবান্ধা সিভিল সার্জনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি জেলার জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে মুখ্য ভূমিকা পালন করে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছেন। জেলার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় সাধন করে সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে একত্রিত করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে কাজ করে আসছেন। প্রতিরোধমূলক ও প্রচারমূলক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ছাড়াও সরকারের স্বাস্থ্যনীতি ও নির্দেশনাগুলো উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে মূখ্য ভূমিকা পালন করছেন। যার মধ্যে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দালাল আটক ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা, এবং একইসাথে হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সুস্থ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা।
সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়তায় সম্প্রতি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকজন দালালকে আটক করেছেন। এই অভিযান স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী রোগীদের দালালদের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হয়েছে। দালালদের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে যথাযথ অনুমতিপত্র না থাকায় সিলগালা করেছেন, যেমন গোবিন্দগঞ্জে সিটি জেনারেল হসপিটালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যা এই ধরনের অনিয়ম কমাতে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখছেন।
শুধু তাই নয়, হাসপাতাল প্রশাসনকে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং রোগীদের সেবা প্রদানে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে উৎসাহিত করছেন। তাঁর এসব পদক্ষেপ হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করে রোগীদের একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর বক্তব্য, “আমাদের জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সিভিল সার্জন মহোদয় নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার প্রচেষ্টায় চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে এবং জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার দক্ষ পরিচালনা ও আন্তরিকতায় আমরা সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি।”
সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, একজন সিভিল সার্জন হিসেবে জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছি। সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে সবার সহযোগীতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস। গাইবান্ধা জেলার স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি হয়তো একদিন এ জেলায় থাকব না, কিন্তু থেকে যাবে আমার কর্ম।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com