আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার | শনিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারিশিল্প কারখানা রংপুর চিনিকল। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের অবস্থিত এ চিনিকলের সাথে গড়িয়ে রয়েছে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা। লোকসান কমাতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার কথা বলে বিগত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার নিয়ন্ত্রনাধীন ১৫টির মধ্যে যে ৬টি চিনিকলে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে, তার মধ্যে অন্যতম রাষ্ট্রায়াত্ব এ চিনিকলটি। তবে বিগত সরকারের বিদ্বেষপ্রসূত সিদ্ধান্তে মাড়াইস্থগিত রংপুর চিনিকলসহ ছয়টি চিনিকল পুনরায় চালুকরণের বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের ঘোষণায় এলাকায় খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। কিন্তু ১০টি মাস পেরিয়ে গেলেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় আবার গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন আখচাষীসহ সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় আখচাষীসহ সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, বার্ষিক আখ মাড়াই মৌসুম শুরুর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও সর্বোচ্চ মাড়াইক্ষমতা ও বিপুল পরিমাণ জমিতে দন্ডায়মান আখ জমিতে রেখে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে একেবারে শেষ মূহুর্তে রায়পুর চিনিকলসহ ছয়টি চিনিকলে মাড়াইস্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিক্ষুব্ধ আখচাষী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেন তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলন বা চাষীদের করুণ আকুতিকে বৃদ্ধাঙুলী দেখিয়ে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করা হয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীরা। তাঁরা বলেন, তখন আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারী ও চাষীদের উদ্দেশ্যে দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, আধুনিকায়ণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই আবার চালু করা হবে এই চিনিকলসহ সকল চিনিকল।
কিন্তু প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা এবং ৫০ হাজার চাষী ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে সম্পৃক্ত লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা অর্জনের এ মাধ্যম রংপুর চিনিকলটি চালু হয়নি দু’বছরেও। বরং এ চিনিকলের স্থায়ী চাকুরীজীবীদের একাংশ, গাড়ি, যন্ত্রাংশ ও নানা প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে এখান থেকে অন্যত্র। কাজ হারানো ‘কাজ নাই, মজুরী নাই’ (কানামনা) চুক্তিভিত্তিক অর্ধসহস্রাধিক শ্রমিকরা এখন পেটের দায়ে ভ্যান-রিক্সা চালনাসহ বিভিন্ন কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে চালু রাখা পার্শ্ববর্তী চিনিকলের চাইতে অধিক মাড়াই ক্ষমতাসম্পন্ন ও অধিক পরিমাণ আখ উৎপাদিত হলেও রহস্যজনক কারণে এ কলটি বন্ধ করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকার হাজার হাজার আখচাষীসহ সাধারণ মানুষ। রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. হাবিবুর রহমান জানান, সরকারি সিদ্ধান্তে মাড়াই বন্ধ হওয়া এ চিনিকলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি জয়পুরহাট চিনিকলের স্থাপিত সাবজোনের কর্মকাণ্ডে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এই এলাকায় আখের সহজলভ্যতার কারণে চিনিকলটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হলে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com