শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচিতে ‘জাহো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ শ্লোগানে প্রকম্পিত তিস্তাপাড়

আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ   |   শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৬০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচিতে ‘জাহো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ শ্লোগানে প্রকম্পিত তিস্তাপাড়
১৮

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, ভাঙন থেকে তীরবর্তী বসতি ও কৃষিজমি রক্ষাসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নদী তীরে মশাল প্রজ্বলন করে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচি পালন করেছে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলায় তিস্তা নদী তীরে পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
একই সাথে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা- কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর ও নীলফামারী জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালন করে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’। তিস্তা তীরে হাজার হাজার মানুষ জ্বলন্ত মশাল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নে বুড়িরহাট বাজার এলাকায় তিস্তা তীরে হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। বাদ্যযন্ত্রের তালে‘ জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ শ্লোগান তুলে ঘন্টাব্যাপী কর্মসূচি পালন করেন তারা। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নদী তীরে দাঁড়িয়ে গলা ছেড়ে তিস্তা নদী বাঁচানোর আকুতি জানান। এসময় তিস্তা তীরে প্রজ্বলিত মশালের আলো নদীর পানিতে জ্বলন্ত প্রতিবিম্ব তৈরি করছিল। এ যেন তীরবর্তী বাসিন্দাদের দাবির স্ফুলিঙ্গ।

‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির’ কুড়িগ্রাম জেলার প্রধান সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনে একাত্বতা জানান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা উজ্জীবিত হয়ে কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচিতে মশাল হাতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর বলেন, ‘সারা বছর তিস্তাত পানি থাকে না। ফির হুট করি পানি আসিয়া সউগ ভাঙি নিয়া যায়। জমি যায়, বাড়িঘর যায়। শত শত মানুষক নিঃস্ব করছে এই তিস্তা। এই নদী বাঁচপার না পাইলে এলাকার মানুষও বাইচপ্যার পাবার নয়। সরকার হামার নদী বাঁচে দেউক।’

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘ কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলাসহ রংপুর বিভাগের ১১ টি স্পটে তিস্তা তীরে মশাল প্রজ্বলন করে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে কয়েকটি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়, অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হোক। একই সাথে তিস্তা তীর সংরক্ষণ করে তীরবর্তী হাজারো বাসিন্দাদের নিরাপদ বসবাস এবং চাষাবাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। এগুলো তিস্তা তীরের মানুষের প্রাণের দাবি। নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, কৃষি বাঁচবে, জীব বৈচিত্র টিকে থাকবে।’

অপর দিকে, একই দাবিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মাওলানা ভাসানী সেতু (হরিপুর ব্রিজ) পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‎কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতা ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক মাহমুদ।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা। আজকের এই মশাল প্রজ্বলন আমাদের ক্ষোভের প্রতীক। আমরা চাই, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক, তিস্তা রক্ষা করা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আজকের এই মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া উত্তরবঙ্গের মানুষ চুপ করে থাকবে না। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।

‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর আহ্বানে এতে অংশ নেন ১৫টি ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ তিস্তাপাড়ের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ‌।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com