শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

স্বর্ণের বার নাকি খণ্ডাংশ? পুলিশের অভিযানে প্রশ্নের ঝড়

মো : সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী:   |   বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৭৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

স্বর্ণের বার নাকি খণ্ডাংশ? পুলিশের অভিযানে প্রশ্নের ঝড়
১৫

গোদাগাড়ী উপজেলার হাটপাড়া ঘাট এলাকায় স্বর্ণের বার আটককে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। আটক সময়, উদ্ধার প্রক্রিয়া ও স্বর্ণের পরিমাণ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।

গত ২০ অক্টোবর দুপুর প্রায় ৩টার সময় সিভিল পোশাকে তিনজন পুলিশ সদস্য হাটপাড়া ঘাটে এসে নৌকা থেকে নামিয়ে মোশাররফ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাউকে কিছু না জানিয়েই তাকে হাতকড়া পরিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান তারা। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ আবার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে স্বর্ণ উদ্ধারের কথা জানায়।

এই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন, এসআই কুদ্দুস, এসআই রেজাউল, এএসআই মজনু মিয়াসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা। তারা জানান, আসামির কোমরে বেঁধে রাখা অবস্থায় ৫টি স্বর্ণের খণ্ডাংশ বার পাওয়া গেছে। স্থানীয় দুজনকে সাক্ষী করে আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এসআই কুদ্দুস বলেন, “আমরা বিকেল ৩টার সময় ঘটনাস্থলে যাইনি। সাড়ে সাতটার দিকে খবর পেয়ে গিয়ে আসামিকে স্বর্ণসহ আটক করি। ঘটনার সময় আমি, ওসি মোয়াজ্জেম, এসআই রেজাউল, এএসআই মজনু ও কনস্টেবলরা উপস্থিত ছিলাম।”

তবে অভিযানে থাকা এএসআই মজনু মিয়া স্বীকার করেন, “৩টার সময় আমরা আসামিকে তুলে এনেছিলাম, কিন্তু তখন কিছু পাওয়া যায়নি। থানায় আনার পর স্বর্ণ পাওয়া গেছে।” পরে স্বর্ণ উদ্ধার দেখানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “৩টার সময় আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য সঠিক নয়। সন্ধ্যার পর আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা যেটা বলছে সেটা পুরোপুরি মিথ্যা।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নৌকার মাঝি মমিন বলেন, “তিনজন সিভিল পুলিশ এসে ৩টার সময় তাকে তুলে নিয়ে যায়। তখন কিছুই দেখায়নি। সন্ধ্যার দিকে এনে দেখায় পাঁচটা স্বর্ণের বার।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উদ্ধার করা স্বর্ণ আসলে আরও বেশি ছিল। পূর্ণাঙ্গ স্বর্ণের বার কেটে খণ্ডাংশ দেখানো হয়েছে এবং বড় একটি অংশ গোপন রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি। হাটপাড়ার কিশোর মুহিন ইসলাম জানায়, “৩টার সময় লইয়া গেছে, আবার এশারের পর আইন্না দেখাইছে সোনা পাইছে।”

একই এলাকার নিতাই জানান, ছবিতে যে সোনার খণ্ড দেখায়, আটক সময় সেগুলো এত ছোট ছিল না—বরং মোটা ও বড় ছিল।

ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com