শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

গাইবান্ধা টিটিসি দক্ষ প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করে বদলে দিচ্ছে জীবনযাত্রার চিত্র

আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ   |   রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৫৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গাইবান্ধা টিটিসি দক্ষ প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করে বদলে দিচ্ছে জীবনযাত্রার চিত্র
১১

উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া অন্যতম একটি জনপদ গাইবান্ধা। পূর্বের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তন হলেও এখনও এই জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান অন্যান্য জেলার তুলনায় পিছিয়ে। এখানে নেই কোন ভারী শিল্প কল-কারখানা যার ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্যতা বিমোচন হবে।

জেলার মোট আয়তনের ২৫ ভাগেরও বেশী এলাকা তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর চরাঞ্চল। এই চরাঞ্চলসহ জেলার প্রায় ৫০ ভাগ এলাকা প্রায় প্রতি বছরই বন্যা কবলিত হয়। বন্যা ও নদীভাঙ্গন এর সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে এ জনপদের মানুষ। খরা এবং শৈত্যপ্রবাহ প্রায়ই এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার প্রক্রিয়ায় আরও চরম সংকট তৈরি করে। এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণভাবে কৃষি নির্ভর। তবে কৃষি থেকে কোনভাবেই দরিদ্র জনগণের সারা বছরের কর্মসংস্থান হয় না। ফলে বেকারত্ব যেন এ অঞ্চলের মানুষের অভিশাপ। এ অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে জেলাবাসীর আশীর্বাদ হয়ে কাজ করছে গাইবান্ধা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যথেষ্ট অবদান রাখায় জেলায় বইছে নব জাগরণের ঢেউ। এতে করে বৈদেশিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রার চিত্র।

বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে পারলে তারাই হবে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১৬ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় শহরের প্রাণ কেন্দ্রের খোলাহাটী ইউনিয়নের ফারজিপাড়া গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি।

এটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ইলেকট্রিক্যাল, রেফ্রিজারেশন, ওয়েল্ডিং, গার্মেন্টস, কম্পিউটার, ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত এবং বৃত্তিমূলক ট্রেডে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করে কর্মীদের কর্মসংস্থান এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করে অনেকেই এই দেশ তথা বিদেশেও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে। তবে, শিক্ষক-কর্মচারী সংকটে প্রশিক্ষণ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠান হতে এ পর্যন্ত ২১/২২টি ট্রেডে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছে প্রায় ৭০ হাজার অধিক বেকার যুবক-যুবতী। এর মধ্যে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করে বিদেশ গমন করেছেন ২১ হাজারের অধিক প্রশিক্ষণার্থী। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এখানে প্রায় ১ হাজার বেকার যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। বিনামূল্যে এবং কিছু ক্ষেত্রে সামান্য খরচে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে খুশি প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এলাকার মানুষের জন্য শুধু আর্শিবাদ নয়, প্রশংসনীয় সফলতায় ইতোমধ্যে জিতে নিয়েছে দেশ সেরার পুরস্কারও।

এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শামসুল হক এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ৩১ আগষ্ট ২০২৫ তারিখে যোগদান করে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাবাহিকতার মুখে এর আধুনিকায়ন, নতুন বিভাগ খোলা, উন্নত প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং শিক্ষকদের মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দৃষ্টি রাখছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা স্থাপন, চাকরির মেলার আয়োজন, এবং উদ্যোক্তা তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যাতে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায় এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তিনি নিজের দক্ষতা, দূরদর্শিতা এবং সু্ষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে ঐকান্তিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে প্রশিক্ষণার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে আসছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। প্রশিক্ষণার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান নয়, এই প্রতিষ্ঠান চায় তার প্রশিক্ষণার্থীরা দেশপ্রেমিক, পরিশ্রমী ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশ সেরা হয়েছে কয়েকটি ট্রেডে। আশা করছি খুব শীঘ্রই প্রতিষ্ঠানটি মডেল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত হবে। তবে প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে শিক্ষক-কর্মচারী স্বল্পতা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াতের জন্য কয়েকটি গাড়ি প্রয়োজন। এসব সহযোগিতা পেলে এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া আরও বহু সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

এতে বেকারত্ব নিরসনের পাশাপাশি আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে। এ প্রতিষ্ঠানটিকে অধিকতর তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com