শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গায় নানার বাড়ীতে আফসানের অবস্থান, উৎকণ্ঠায় পিতা

আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ   |   মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গায় নানার বাড়ীতে আফসানের অবস্থান, উৎকণ্ঠায় পিতা
৩০

হাতজোড় করে বলছি, আমার অবুঝ সন্তানকে ফিরিয়ে দিন, কতদিন ধরে তাকে দেখিনা, একবার হলেও দেখার সুযোগ করে দিন। কোথায় কি অবস্থায় আছে জানেনা বাবা। সন্তানকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে বাবার চোখের জল।

প্রলাপ করছেন কেউ কি শুনবেনা আমার কান্না? কথাগুলো বলেন, সন্তানের জন্য নিঃশব্দ আহাজারি করা বাবা আব্দুল খালেক। আব্দুল খালেক গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী উজির ধরণী বাড়ী গ্রামের মৃত সাহেব উদ্দিনের পুত্র।

আব্দুল খালেক মিয়ার দাবী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজিবপুর গ্রামের মোঃ হায়দার আলীর মেয়ে হাছনা হেনা খাতুনের সাথে গত ১১-০২-২০২২ তারিখে ইসলামী নিয়মানুযায়ী রেজিঃমুলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসার জীবনে তাদের ঘরে আফসান আহমেদ নামে এক শিশুর জন্ম হয়। সংসার জীবনের এক পর্যায়ে সাংসারিক বিষয়াদি নিয়ে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হলে হাছনা হেনা খাতুন কোলের শিশু সন্তান আফসান আহমেদকে নিয়ে পিতার বাড়ীতে অবস্থান নেন। বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় পরবর্তীতে গত ১৭-০৯-২০২৩ তারিখে ডিভোর্সের ঘটনা ঘটে।

আব্দুল খালেক মিয়ার দাবী, বাড়ী থেকে চলে যাবার সময় এ দেখাই ছিল শিশু পুত্র আফসান আহমেদ এর সাথে শেষ দেখা। বর্তমানে ওই পুত্রের বয়স ৩ বছর চলছে। হাছনা হেনা খাতুন চলে যাবার পর থেকে মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও পুত্র আফসান আহমেদকে আর দেখতে পাচ্ছিনা। কিছু দিন পর পর দেখতে গেলেও দেখা না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। গতকাল সোমবার আমার বড় পুত্রসহ বাড়ীর লোকজন আফসান আহমেদ এর অনুসন্ধানে গেলে হাছনা হেনা খাতুনের পিতা হায়দার আলী দেখা মাত্র লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন এবং তর্জনগর্জন করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেন। হুংকার দিয়ে জানান, এরপর আর কোন দিন এ বাড়ীতে এলে লাশ ফেলে দিব।
এমতাবস্থায় শিশু আফাসান আহমেদ কোথায় কি অবস্থায় আছে তিনি তা জানেননা।

কথা হলে পুত্র শোকে কাতর আব্দুল খালেক মিয়া হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তার নিঃশব্দ আহাজারিতে আকাশ-বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠে। অঝর ধারায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার শিশু পুত্র কোথায় কি অবস্থায় আছে? গুম না কি পাচার করা হয়েছে জানিনা। একটি বার হলেও দেখার সুযোগ করে দাও!কেউ কি শুনবেনা আমার কান্না?

সরেজমিনে দেখা যায়, পুত্রের জন্য আব্দুল খালেক মিয়ার এমন করুন আহাজারী তার পরিবারে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। আসলে পিতার কাছে সন্তানের প্রতি যে ভালবাসা যার মুল্য কেউ দিতে পারে না, সন্তান কাছে না থাকলে পিতার অবস্থা কেমন হয় তা একটু অনুধাবন করলেই দেখবেন আপনার চোখেও জল আসতে বাধ্য।

এ বিষয়ে শিশুটির মা হাছনা হেনা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে জানান, আব্দুল খালেক চুরি করে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। সন্তানের বয়স হলে আইনীভাবে ফিরে পেতে পারে। এর আগে নয়।

আব্দুল খালেক মিয়া জানান, একজন বাবা হিসেবে আইনানুযায়ী সন্তানের ভরণপোষণ দেয়াসহ তার ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার। কিন্তু সন্তান কোথায় কি অবস্থায় আছে জানিনা। বাবা হিসেবে এক নজর দেখার অধিকার কি আমার নেই?

ধোপাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মন্ডল জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে কোন পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এলাকার সচেতন মহল বলছেন, কাছে সন্তান না থাকলে বাবা-মা জানে সন্তান হারাবার বেদনা। একদিকে বাবা-মাকে দেখতে সন্তানের আহাজারী অপর দিকে সন্তানকে দেখতে বাবা-মা এর আহাজারী এ যেন আবেগঘন এক বিষাদময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যপট। তাই সন্তানের জন্য বাবার নিঃশব্দ আর্তনাদ আর বাবার জন্য সন্তানের আহাজারি সবার মনকে নাড়া দিলে সন্তান ফিরে পাবে বাবাকে, বাবা ফিরে পাবে সন্তানকে। প্রয়োজন শুধু প্রশাসনের একটু সুনজর…।

এ রিপোর্ট লেখা অবধি জানা গেছে, ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক এ বিষয়ে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com