সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুস সালাম মোল্লা: | মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ওরফে ‘বোমা ফারুক’ গ্রেফতারের ঘটনায় প্রেস ব্রিফিং করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল। এ সময় ফরিদপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ৯ নভেম্বর সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সামনে সরকারি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ১৩ নভেম্বর ঢাকা শহর লকডাউনসহ সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও সরকারবিরোধী কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তারা সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থযোগানদাতা হিসেবে বোমা ফারুকের নাম উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতয়ালী থানার পুলিশ ঝিলটুলী এলাকার নূরজাহান টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ফারুক ওরফে বোমা ফারুক (৫৩) এবং ফরিদপুর জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসরিন আক্তার (২৮)-কে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানান, আওয়ামী লীগের ডাকা ১৩ নভেম্বরের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি সফল করতে ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন তাকে ৫ লাখ টাকা দেন, যার মধ্যে ৪ লাখ টাকা তিনি ইতোমধ্যে সহযোগীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফারুক বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে তার দলীয় লোকদের অর্থ পাঠাতেন এবং মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি লকডাউন কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।
জেলা পুলিশ জানায়, ফারুক হোসেন ছাত্রজীবনে ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজের ভিপি ছিলেন এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ৪টি এবং ঢাকার দুটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ রয়েছে সন্ত্রাস, বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার, অরাজকতা সৃষ্টি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ততার।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ফারুক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পলাতক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে দলের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন এবং লকডাউন কর্মসূচির জন্য অর্থ ও নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com