মনিরুজ্জামান তুহিন,ইবি প্রতিনিধি: | মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৫৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সদ্য প্রকাশিত বার কাউন্সিল রেজাল্টে চূড়ান্তভাবে অ্যাডভোকেট হিসেবে একই সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হলের (পূর্বনাম শেখ রাসেল হল) ২১২ নম্বর কক্ষের চার বন্ধু শামীম হোসেন সোহান, আলমগীর হোসেন, আশহাদুল ইসমাম ও মেজবা আলম সরকার।
শামীম হোসেন সোহান ২০১৭ সালে রাজশাহীর আত্রাই আগ্রনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। রাজশাহীর মোহনপুরের বাসিন্দা তিনি। আলমগীর হোসেন ২০১৬ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। সুনামগঞ্জের রংপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। আশহাদুল ইসমাম চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই’র বাসিন্দা। তিনি ২০১৬ সালে সরকারী কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম থেকে এইচএসসি পাশ করেন। অন্যদিকে মেজবা আলম সরকার রাজশাহীর শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান সরকারী ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি বগুড়া জেলার বাসিন্দা। এরপর তারা ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে চারজনেই ভর্তি হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে।
শামীম হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে শেখ রাসেল হল চালু হলে (বর্তমান নাম শহীদ আনাস হল) হলের প্রথম আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলাম আমরা। হলের ২১২ নাম্বার রুম আমাদের নামে এটাস্টমেন্ট আসে, একদম নতুন হল এবং আমরা এক রুমে সবাই আইনের (আইন-৩০তম) এবং আমাদের আর এক বন্ধু ছিল মেরাজুল ইসলাম মেরাজ( HRM 17-18)। রুমে সবাই আইনের হওয়ায় আমি রুমের নামকরণ করেছি Law Chamber. একই বিভাগের হওয়ার কারণে আমরা যেমন আড্ডা দিয়েছি তেমনি পড়াশোনাও সময়মত করেছি এবং আইনের জটিল বিষয়গুলো গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছি। আইনের ছাত্র হিসেবে সর্বপ্রথম সবার মনোযোগ থাকা উচিত এ্যডভোকেটশীপ সনদের দিকে এবং আমরা চার বন্ধু সেটাই করেছি এবং আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি। জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে বলব অনার্স রেজাল্ট পাবলিসড হওয়ার সাথে সাথে সার্টিফিকেট তুলে ইন্টিমেশন জমা দেওয়া কারণ বারে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ইন্টিমেশন জমা দেওয়ার পর থেকে পরীক্ষার সার্কুলারের পূর্বে ৬ মাস পূর্ণ হতে হবে তবেই পরীক্ষায় বসতে পারবে। প্রিপারেশন এর ক্ষেত্রে একাডেমিকের পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন প্যাটার্ন বুঝে পড়াশোনা করলেই হবে এবং কঠিন বিষয়গুলো না বুঝলে সিনিয়রদের হেল্প নিতে পারে। ফলে আইনের অনেক কঠিন ও জটিল বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারবে।
আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা পড়াশোনায় রেগুলারিটি মেইনটেইন করতাম। প্রতিদিন অল্প হলেও পড়ার চেষ্টা করতাম। নিজেদের মধ্যেও গ্রুপ করে পরীক্ষা দিতাম এবং আইনের কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতাম। তবে আইনের অনেক বিষয় ছিল, যা আমাদের নাগালের বাইরে; সেগুলো আমরা বড় ভাইদের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করতাম। এই যাত্রায় যাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ— শাহাদাত হোসেন নিশান ভাই, হাসান আল আজাদ ভাই এবং শিথুন ওয়াজিদুর রহমান ভাই। জুনিয়রদের প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো—আইন একা শেখার বিষয় নয়। তাই বন্ধুবান্ধব ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় শেখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
আশহাদুল ইসমাম বলেন, হল প্রতিষ্ঠার শুরুতেই আমরা হলে উঠি। আমাদের রুমটা ছিলো আমাদের সেশনের মধ্যমণি। আড্ডা, আনন্দ, বিনোদন পড়ালেখা সব সমানতালে হত। সবকিছুর ফাঁকে পড়ালেখাটা সবসময় ঠিক রাখার চেষ্টা করতাম। এর মধ্যে শামীম ছিলো ডিপার্টমেন্টের ফার্স্ট বয়। তাই রুমে আলাদা একটা পড়ার পরিবেশ থাকতো সবসময়ই। আমাদের মধ্যে হিংসা ছিল না কখনো, কারণ আমরা বাকি ৩জন ছিলাম ব্যকবেঞ্চার। মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ছিলো না একে অপরের সাথে যার ফলে আমাদের বন্ডিং টা সুদৃঢ় ছিলো।আইনের ছাত্র হিসেবে আমাদের লক্ষ্য ছিলো প্রথমবারেই অ্যাডভোকেশীপের সনদ পাওয়া। সিনিয়ররা উপদেশ দিত প্রথমবারে না হলে পরবর্তীতে হতে কষ্ট হয়ে যায়। বই, শীট দিয়ে একে অপরকে আমরা সাহায্য করতাম পড়ালেখার বিষয়ে। পড়ালেখা শেষ করে হল ছেড়ে সবাই ঢাকা চলে আসলেও আমাদের মধ্যে সবসময়ই যোগাযোগ আছে। রেজাল্ট দেয়ার পর সবার খবর যখন শুনলাম তখন খুব আনন্দ হল। জুনিয়রদের প্রতি পরামর্শ থাকবে, যে সেক্টরেই জব করুক না কেনো, প্রথমবারেই বারের সনদ টা যাতে পায়। আইনের শিক্ষার্থীর এটা অন্যতম প্রধান পরিচয়। অনার্সের রেজাল্টের পর একদিন ও দেরি না করে ইন্টিমেশন জমা দিতে হবে। একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি বারের সিলেবাসটা শেষ করতে হবে। তাহলে পরীক্ষা আসলে আর আলাদা করে চাপ নিতে হবে না।
মেজবা আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর কিছুদিন কুষ্টিয়া শহরে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে শেখ রাসেল হলের ২১২ নং রুমে উঠি। এরপর থেকেই বিভাগের পরে সবথেকে প্রিয় জায়গা হয়ে যায় ২১২ নং রুম। আইন বিভাগে ভর্তির পর থেকেই মাঝে মাঝে কোর্টে যাতায়াত করতাম। একজন অ্যাডভোকেটকে দেখে সবসময়ই নিজেকে সেই জায়গায় কল্পনা করতাম। অ্যাডভোকেট হওয়ার সেই জার্নির পিছনে প্রথম উৎসাহ ও সহযোগীতা পেতাম রুমমেটদের থেকে। এ ছাড়া আমরা সিনিয়রদের থেকে দিকনির্দেশনা নিতাম। আবার, বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয়স্বজনদের কোনো আইনগত সমস্যা উদ্ভূব হলে আমরা চার বন্ধু একত্রিত হয়ে উৎসাহের সহিত সেটাকে সমাধান করার চেষ্টা করতাম। এছাড়া চার বন্ধু একসাথে থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধাটা ছিলো একজন পড়তে বসলে বাকিরা পড়তে বসার আগ্রহ পেত। সবার একই সময়ে পরীক্ষা থাকতো, এবং একই সময়ে ছুটি থাকতো। তাই আমাদের মধ্যে হতাশা বা একঘেয়েমি অনূভব করতাম না।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ এবং ১৩ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় নির্ধারিত রোল নম্বরধারী প্রার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বাংলাদেশে আইন পেশায় অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীন আইন পেশা পরিচালনার জন্য আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আইন পেশা শুরু করার জন্য ছয় মাসের মধ্যে তাঁদের নির্বাচিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com