শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বারহাট্টায় ডিপফেইক ভিডিও ছড়িয়ে তথ্যবিভ্রাটঃ শিক্ষক  শিক্ষিকারা বিব্রত, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

আসাদুজ্জামান তালুকদার নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি:   |   শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বারহাট্টায় ডিপফেইক ভিডিও ছড়িয়ে তথ্যবিভ্রাটঃ শিক্ষক  শিক্ষিকারা বিব্রত, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
৮০

সরকারি বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি ও শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রতিনিয়ত স্কুলে না আসা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যলয়টির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে গুমুরিয়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় সৃষ্টি থেকে এখন পর্যন্ত ষড়যন্ত্র চলমান।

এই বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য যে চক্রটি বিদ্যালয় স্থাপিত পূর্ব থেকেই বিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এখন আবার দীর্ঘ বিশ বছর পর চক্রটি ষড়যন্ত্রলিপ্ত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সহ জমি দাতা আব্দুল মুন্নাহফের।

এদিকে স্থানীয় ও জমিদাতাদের সূত্রে জানা যায়, গুমুরিয়া গ্রামে বিদ্যালয়টির স্থাপত্যের সময় একশোরও অধিক গণপিটিশনের মাধ্যমে শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন অধিদপ্তরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তৎকালীন সময়েও বাধা সৃষ্টি করা হয়।যাতে গুমুরিয়া গ্রাম শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকে।
ইতিপূর্বেও তারা এখানে বিদ্যালয় গড়ে উঠুক চায়নি। এখন আবার ওই চক্রটির থেকেই বিদ্যালয় ও আমাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন অধিদপ্তরে অভিযোগ এনে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। শিক্ষাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।আমরা এর সুস্থ তদন্ত চাই কেন বারবার এই বিদ্যালয় নিয়ে কেন এত ষড়যন্ত্র।

অপরদিকে প্রধান শিক্ষক মো. আ. হান্নান সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আরাকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার করা হচ্ছে। ২০০৪ সাল থেকে সে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছে। কিন্তু ফেসবুকে তার একটি ডিপফেইক ভিডিও ছড়িয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যেখানে এইশিক্ষিকার ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়। যে তিনি এই বিদ্যালয়ের একজন প্রক্সি শিক্ষিকা হিসেবে ক্লাস নিচ্ছেন। অথচ তিনি এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা। যেখানে ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে তিনি ক্লাস নিচ্ছেন, কিন্তু বলা হচ্ছে একজন কাল্পনিক শিক্ষিকার নাম। যে নামে কোন শিক্ষিকা এ বিদ্যালয়ে নেই। মূলত পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন যাবত ধারাবাহিকভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। শুধু এই শিক্ষিকাই নয়, বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনসহ প্রত্যেককেই জড়িয়ে নানা সময় অপপ্রচার করা হয়। বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিতর্ক তৈরী করে যাতে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আরা জানান, কয়েকদিন আগে আমি ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস নিচ্ছিলাম। তখন কয়েকজন ব্যক্তি এসে ভিডিও করে নিয়ে যায়। পরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখি আমার সেই পড়ানোর ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে যে আমি প্রক্সি শিক্ষিকা। অথচ আমি ২০০৪ সাল থেকে দায়িত্বশীলতার সাথে এ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছি।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে গিয়ে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোণা জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও বারহাট্টা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জানান যে, তারা গুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এবং তারা তাদের তদন্তে নিশ্চিত হয়েছেন যে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটিতে যে শিক্ষিকাকে প্রক্সি শিক্ষিকা হিসেবে দেখানো হয়েছে সেই জেসমিন আরা আসলে বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। বিষয়টি তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছেন।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com