এম জি রাব্বুল ইসলাম পাপ্পু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ধরলা নদীর ভয়াল ভাঙনে বারবার সর্বস্ব হারিয়ে এখন একটুখানি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অসহায় নারী মোছা: শামসুন্নাহার। মাথা গোঁজার মতো একটি স্থায়ী ঘরই এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হন শামসুন্নাহার। একাধিকবার তার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বশেষ ভাঙনের পর কোনো রকমে একটি জরাজীর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি, যা যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
শামসুন্নাহার বলেন, “প্রতি বছর ঘর হারাই, আবার নতুন করে শুরু করি। কিন্তু আর পারছি না। আমার শুধু একটা নিরাপদ ঘর দরকার, যেখানে সন্তানদের নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো।” তার কণ্ঠে ছিল হতাশা আর বেঁচে থাকার আকুতি।
স্বামী বাবুল ইসলাম অন্যত্র বিয়ে করে বঊ নিয়ে থাকেন। নিজের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে এবং নাতি নাতনি নিয়ে অসহায় শামসুন্নাহার জীবন ধারনের জন্য অন্যের কাছে হাত না পেতে ছোট একটি চায়ের দোকান দিয়ে সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চলে, সেখানে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পুরো পরিবারের।
স্থানীয়রা জানান, ধরলা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। তবুও ভাঙনকবলিতদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখনো সীমিত। শুধু অস্থায়ী সহায়তা দিয়ে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে শামসুন্নাহার সরকারের কাছে একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও তার এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ না নিলে, শামসুন্নাহারের মতো অসহায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com