সিনিয়র রিপোর্টার :আব্দুস সালাম মোল্লা | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা কবির খানকে (৫২)ঢাকা জেলার দোহারের হরিচন্ডী গ্রাম থেকে ২২ এপ্রিল সাড়ে বারোটায় চরভদ্রাসন থানা পুলিশ গোপন সংবাদেও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে
গ্রেপ্তারকৃত কবির খান কে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডি গ্রামে অভিযান গ্রেপ্তার করা হয়।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার্স ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দোহার থানা পুলিশের সহযোগিতায় হরিচন্ডি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে চরভদ্রাসন থানায় নিয়ে আসা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চরভদ্রাসনের চর সালেপুর মুন্সিরচর বাজার এলাকায় কবির খানকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরায় পুলিশ। তাকে মোটর- সাইকেলে তোলার সময় তার ভাই সূর্য খানসহ ১৫-২০ জন অনুসারী পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে এসআই রফিকুজ্জামান সহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কবির খান হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার ফেলে যাওয়া হাতকড়াটি একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ থানায় জমা দেয়।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে অনুসারীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর মুন্সিরচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আসামি কবির খান (৪৫) চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর গ্রামের মৃত সুরমান খানের ছেলে। তিনি চর হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চরভদ্রাসন থানায় একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মুন্সিরচর বাজারে অভিযান চালিয়ে কবির খানকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে মোটরসাইকেলে তোলার সময় কবিরের বড় ভাই সূর্য খান পুলিশের কাজে বাধা দেন। মুহূর্তের মধ্যে কবিরের ১০ থেকে ১৫ জন স্বজন ও অনুসারী পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং হাতকড়া পরা অবস্থায় তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হামলায় এসআই রফিকুজ্জামানের ডান হাত জখমসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, কবিরের এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ অন্য হাতে ধরে রেখেছিল। কবিরের অনুসারী ও স্বজনেরা এসে হামলা চালিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়াটি উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কবির খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ আগের দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এসআই মো. রফিকুজ্জামান বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে নতুন একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতা কবির খানের ভাগিনা আলমগীর (৩০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক খান বলেন, কবির খানের বিরুদ্ধে আগের মামলার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার নতুন মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com