শফিকুল ইসলাম বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চলতি বোরো মৌসুমে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের বাম্পার ফলন দেখা গেলেও উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও টানা ভারী বৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ, সার ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরির চাপের পাশাপাশি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের জমির ধান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও বিলাঞ্চলে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। আগাম জাতের ধানের মধ্যে জিরাশাইল, ব্রি-২৮, ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ জাতের চাষ বেশি হয়েছে।কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক বছরে রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ায় ব্রি-২৮ চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছিল। তুলনামূলকভাবে রোগ সহনশীল ও অধিক ফলনশীল হওয়ায় এবার ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ জাতের আবাদ বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর হাওর ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর বিলে পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। তবে প্রতিদিনের বৃষ্টি ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে অনেক কৃষক আগাম ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন,
“সরকারিভাবে এবার নবীনগরে ১ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মণ ধান সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। ইতোমধ্যে কৃষকের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।”
তিনি আরও জানান,“এ বছর সরকারিভাবে ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি এড়াতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে।”
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ওয়ারুক গ্রামের কৃষক আব্দুল বাতেন বলেন,“উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, বাজারে সেই তুলনায় ধানের দাম না পেলে কৃষকের টিকে থাকা দায় হবে। ধান কাটতে একদিনের শ্রমিক মজুরি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।”কনিকাড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন,“গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের দাম অনেক কম।
সরকার মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা দাম নির্ধারণ করলেও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় লাভ হবে না।”
নবীপুর গ্রামের কৃষক জালাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা কৃষক গায়ের ঘাম মাটিতে ফেলে ফসল উৎপাদন করি, কিন্তু লাভ করতে পারি না।”
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com