শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা শীর্ষক সেমিনারে ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:   |   শনিবার, ০৯ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা শীর্ষক সেমিনারে ডা. শাহাদাত হোসেন
৪৮

এবার বর্ষাকালে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত শহর আপনারা পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, কাজেই এখানে আমি কোনো নিরাশা দেখি না। শুধু একটা বিষয়কে ভয় পাচ্ছি ওই জোয়ার, যেটা আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই।

 

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা : সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মেয়র বলেন, আপনাদের কি মনে নেই সেই ২২-২৩ এমনিক ২৪ সালও যখন বর্ষা হয়েছে, বহদ্দারহাট থেকে রেজাউল করিম সাহেব বের হতে পারেননি কিংবা দেখেননি? তো ২৫ সালে বহদ্দারহাটে পানি উঠেছিল? উন্নতি হয়েছে তো, নাকি হয়নি? হয়েছে। আমি আপনাদেরকে কিন্তু এটা স্পষ্ট বলতে চাই, আপনারা যারা স্বচক্ষে দেখেছেন ২৩-২৪ সালে বদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর, চকবাজার পানির জন্য মানুষ বের হতে পারে নাই, ২৫ সালে মানুষ বের হতে পেরেছিল কিনা, পানির জন্য কষ্ট পেয়েছে কিনা? পায়নি। কাজেই আমাদের এত নিরাশ হওয়ার কী আছে? উন্নতি তো হয়েছে। শুধু এটুকুই বলছি চিন্তার কিছু নেই।

 

নগরবাসীর সেবায় আমি কোনো কম্প্রোমাইজ করিনি উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বহদ্দারহাটের যে বড় মার্কেট থেকে ২০ লাখ টাকা ভাড়া পেতাম, যেটা নালার উপর দিয়ে মার্কেট করেছিল, সেটা আমি এক বাক্যে ভেঙে দিয়েছিলাম। যার কারণে বহদ্দারহাটে পানি নেই। এছাড়া আমাদের প্রস্তুতি হচ্ছে আগামী ৬ মাসের জন্য। কারণ আমাদের যে ষড়ঋতুর দেশ এখন আর ষড়ঋতুর দেশ নাই। গ্রীষ্মের পর বর্ষা, বর্ষার পরে শরৎ আর হেমন্ত আসে নাই গত বছরে। শরৎ হেমন্ত বর্ষার মধ্যে ঢুকে গেছে। ছয় মাস আমরা বর্ষাকাল দেখেছি। জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত কিন্তু বৃষ্টি পড়েছে। কাজেই এবারও আমরা ওই চিন্তা করে ছয় মাস নিয়ে আমরা চিন্তা করছিলাম যে জুনের ফার্স্ট উইক থেকে আমাদের নভেম্বর।

 

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সেমিনার উদ্বোধন করে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী।

 

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়ার মো. আরিফ ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আল আমিন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আয়েশা খানম ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনির্ভাসিটির ভিসি ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

 

সিটি মেয়র আরও বলেন, আজকে আমাদের মূল সমস্যা ওইখানেই, যারা সেদিন ৬ হাজার কোটি টাকা, ৯০০০ কোটি টাকা চুরি করে সিটি কর্পোরেশনকে এড়িয়ে জোর করে প্রকল্প নিয়েছিল। পরে তাদের সক্ষমতা নেই বলে তারা ভাড়া করেছে সেনাবাহিনী। সিডিএ চেয়ারম্যান মাত্র এসেছেন জুলাই-আগস্টের পরে, উনিও একজন বৈপ্লবিক নেতা, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে উনি কিন্তু এসেছেন। সততার ব্যাপারে আমি বলতে পারি উনি অত্যন্ত অনেস্ট। কাজে আমি মনে করি এখানে আসলে কারো দোষ নেই।

 

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে কীভাবে আরও সচেতন করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকনির্দেশনা এই সেমিনার থেকে পাওয়া গেছে। খাল-নালা দখলমুক্ত করা ও খালের পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণে বিশেষজ্ঞ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে খাল ও নালায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 

আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নসরুল কদির, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জি. দেলোয়ার মজুমদার, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও ফোরাম ফর প্ল্যনড চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ড. সিকান্দর খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহ নওয়াজ, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসেসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, রাশিয়ান অনারারী কনসালটেন স্থপতি আশিক ইমরান, ঈসা আনসারী, অভিক ওসমানসহ অন্যরা।

 

সেমিনারে বক্তরা বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে- নালা-খালে ময়লা ফেললে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ নালা-খালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং পলিথিনমুক্ত শহর গড়ে তোলা।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সেমিনার আয়োজন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সেলিম ও আবুল হাসনাত এবং উপ-কমিটির সদস্য ডেইজি মওদুদ, মো. শহিদুল ইসলাম, আরিচ আহমেদ শাহ, আবু মোশারফ রাসেল, ফারুক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ আজাদ, জামাল উদ্দিন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর আলম, ইসমাইল ইমন,তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, মনিরুল ইসলাম মুন্না ও বাকি বিল্লাহ প্রমুখ।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com