আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী গ্রাম। এই গ্রামে এক সুতোয় বাঁধা জীবনের গল্প তৈরি করেছিলেন বৃদ্ধা মা কয়েদ ভানু (৯৫) দৃষ্টি ও শারীরিক বাক্প্রতিবন্ধী ছেলে আসকর আলী (৬৫)কে নিয়ে। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে বাবা আলতাফ মিয়া মারা যাওয়ার পর থেকেই কয়েদ ভানু অমানুষিক কষ্টে বড় করেছিলেন তার এই প্রতিবন্ধী সন্তানকে। নিজের কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। বয়সের ভারে যখন শরীর চলছিল না তখন আর ভিক্ষা করতেও পারেননি। অনাহার অর্ধাহারে প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে মা পড়ে থাকতেন অন্যের বাড়িতে, কখনোবা গোয়ালঘরে কিংবা রাস্তায় খবরের কাগজের আড়ালে। মা-ছেলের এই করুণ জীবনের চিত্র স্থানীয়দের হৃদয় ছুঁয়ে দেয়। এলাকার ‘তামিম মিডিয়া’ নামের একটি সংগঠনের কয়েকজন যুবকের সহযোগিতায় দুই প্রতিবন্ধীর মধ্যে একজনের ভাগ্যে মেলে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। কিন্তু মায়ের নামে বয়স্ক ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড মেলেনি। একটি ভাতার টাকা দিয়ে সংসার চলছিল না। অনাহারে অর্ধাহারে কাটতে ছিল তাদের জীবন।
তখন সংগঠনের যুবকরা অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। যুবকরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে নিয়মিত খাবার সরবরাহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেই সাথে, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করে অন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি সংগঠনটির যুবকেরা; তারা মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে একটি ঘর নির্মাণসহ প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থাও করে দেন। একটি ঘর ও খাবার পেয়ে অসহায় মা ও প্রতিবন্ধী ছেলের মুখে হাসি ফোটে। যুবকদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় মা-ছেলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। জীবনভর যিনি ছিলেন আসকরের একমাত্র ঠিকানা ও ছায়া, সম্প্রতি সেই মা আর নেই। পৃথিবী নামক এই কোলাহলে নিঃসঙ্গ হয়ে তিনি রেখে গেছেন তার ছেলে আসকর আলীকে। মাকে হারিয়ে আসকরের চারপাশ এখন শুধুই এক গভীর শূন্যতা, এক অন্তহীন হাহাকার।
এই নিদারুণ দুঃসময়েও সমাজসহ ওই সংগঠনের যুবকেরা আসকরের পাশে বাড়িয়ে দিয়েছে সহানুভূতির হাত। ওই যুবকেরাই যেন মানবিকতার এক মূর্ত প্রতীক। তাঁরা আসকরের মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বলছেন, ‘মা হারিয়েছো ঠিকই, কিন্তু আমরা তোমার ভাই, তোমার পরিবার। তুমি একা নও।’ তাঁদের এই সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা হারিয়ে যাওয়া মায়ের শূন্যতা হয়তো কখনো পূরণ করতে পারবে না, তবে আসকরকে এক নতুন আগামীর পথ দেখাচ্ছে। চোখের জলে ভিজে যাওয়া আসকরের এই বিষণ্ণ পৃথিবীতে যুবকদের এই মানবিকতার আলোই হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার ও ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র প্রেরণা। ওই সংগঠনের যুবক তরিকুল ইসলাম তামিম, রব্বানী শেখ, মামুন মিয়া, জাকারিয়া রহমান দুলাল, মোস্তফা মন্ডল, আহসান হাবীবরা জানান, আমরা অসহায় মানুষের জন্য কাজ করি।
এই চরম অসহায় ও মানবেতর পরিস্থিতিতে আসকর আলীর জন্য নিয়মিত খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা খরচ, এবং একটি স্থায়ী পুনর্বাসন বা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা ‘তামিম মিডিয়া’-এর পক্ষ থেকে আসকরের এই দুরবস্থা লাঘবে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু একজন প্রতিবন্ধী যুবকের আজীবন বেঁচে থাকার জন্য এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাই সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ও প্রবাসী ভাই-বোনদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ—আসুন, এই এতিম ও অসহায় আসকর আলীর পাশে দাঁড়াই। আপনাদের সামান্য সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা পারে আসকরের মতো একজন নিরাশ্রয় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com