নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
লেখাপড়ার একগুঁয়েমিতা ভাব দূর করতে ভ্রমণের বিকল্প দ্বিতীয়টি হতে পারে না। সমুদ্রের গর্জন, বালির স্পর্শ, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য–সব কিছু মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এমন এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস সোসাইটির উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী কক্সবাজার ভ্রমন অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত হিসেবে খ্যাত ভ্রমণ স্বর্গ কক্সবাজার। এটি ভ্রমণ বিলাসী ও পর্যটকদের আনন্দ ভ্রমণ ও অবকাশ সময় কাটানোর অন্যতম মনোরম ও মন-মুগ্ধকর জায়গা। শুধু দেশে নয়, কুয়াকাটার পরিচিতি এখন বিশ্বজুড়ে। বেলাভূমির একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখার সমুদ্র সৈকত।
নজরকাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কক্সবাজারের রয়েছে আলাদা সুখ্যাতি। পরিকল্পনা অনুযারী ৫ তারিখ রাত ৯ টায় যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গাড়িতে বিভিন্ন গানের তালে তালে প্রত্যেকে যাত্রার মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে থাকে। প্রথমদিন (৬ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে সমুদ্র সৈকত, ইনানী সৈকত, কলাতলী সৈকত, বার্মিজ মার্কেট ও আশেপাশের স্থান পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীরা।
পরদিন (৭ ডিসেম্বর) মেরিন ড্রাইভ রোড, মিনি বান্দরবান, ঝাউবন সহ আরও বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে একই দিন রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় তারা। জানা যায়, সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি হোটেলে শিক্ষার্থীদের হোটেল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্রাম ও সকালের নাস্তা শেষে সাগরের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা আনন্দ উপভোগ করতে থাকে।
দৃষ্টি সীমায় শুধুই থৈথৈ জলরাশি। সমুদ্রের গর্জনে ও হালকা হাওয়ায় সবার মনপ্রাণ একদম জুড়িয়ে যায়। প্রথমে সমুদ্র কিছুটা শান্ত থাকলেও ধীরে ধীরে সমুদ্রের নোনা জল আর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে দোল খেতে শুরু করে সবাই। কেউ ঝিনুক কুড়ায়, কেউ নিজের ছবি তোলায় ব্যস্ত। আবার কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে ভাসতে শুরু করে।
সব ক্লান্তি যেন নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস সোসাইটির সহ-সভাপতি সাইমা সিদ্দিকা বলেন, ভ্রমণ শুধু বিনোদন মাত্র নয়, জীবনের অনেক কিছুই শিক্ষা দেয়। আমাদের এই সফর জীবনের মাইলফলক হিসেবে থেকে যাবে। কিছুদিন পরই প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জায়গায় চলে যাবে। কিন্তু এই আনন্দের দৃশ্য স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে সারাজীবন। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস সোসাইটির সভাপতি ইয়ামিন হোসেন বলেন, আমার দায়িত্বের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার বাইরে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য আমরা কক্সবাজারে একটি ভ্রমণের আয়োজন করেছি।
এই ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি, যাঁরা এই উদ্যোগে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছেন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ এবং অংশগ্রহণ আমাদের ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ভ্রমনে অন্যান্যদের মধ্যে আইইএস এর সাধারণ সম্পাদক আনাচ বিন হাফিজ, সহ-সভাপতি আজওয়াদ হাসান লাবিব, বিভাগের শিক্ষক ও আইইএস উপদেষ্টা মো. টুটুল তাহাসান টিটু, বিভাগের শিক্ষিকা ঐশী দাস, বিভাগের এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার ফারজানা সিদ্দিকা, অর্থনীতির বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর গোলাম রসুল সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com