শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

আব্দুল লতিফকে খরচ না দিলে মিলে না সদরের ইউএনও-র সাক্ষর ,ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

শফিকুল ইসলাম বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রতিনিধি:   |   মঙ্গলবার, ০৪ মার্চ ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৯১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আব্দুল লতিফকে খরচ না দিলে মিলে না সদরের ইউএনও-র সাক্ষর ,ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

ভদ্রলোকের নাম আব্দুল লতিফ।তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়ার বাসিন্দা। ত্রিশ বছরের সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আব্দুল লতিফ বিগত ছয় মাস যাবত দায়িত্ব পালন করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে।

অফিসের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা ও রেভিন্যিউ সংক্রান্ত পেন্ডিং ফাইলে ইউএনও’র সাক্ষর নেন আব্দুল লতিফ। অর্থাৎ সদর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিল ভাউচার, শিক্ষকদের এমপিও সীট,বিদ্যালয়ের রেজুলেশন খাতা,শিক্ষকদের চাকরির প্রয়োজনে বিভিন্ন ফাইল এবং রেভ্যিনিউ অফিসের ফাইলে ইউএনও’র সাক্ষরের জন্য ফাইলগুলো প্রথমে আব্দুল লতিফের কাছে জমা দিতে হয় এবং তিনি ইউএনও’র সামনে ফাইলগুলো উত্থাপন করে থাকেন।ইউএনও অফিসের বাইরে টানানো সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী ইউএনও’র সাক্ষর সেবাপ্রার্থীরা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে আগত সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব সাক্ষরের জন্য আব্দুল লতিফকে ফাইলের ধরন অনুযায়ী দুশো টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।সাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা এবং বিলম্বজনিত দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সেবাপ্রার্থীরা এই খরচ দিতে বাধ্য হন। অনেকক্ষেত্রে টাকা দিয়েও দিনের পর দিন ঘুরতে হয় একটা সাক্ষরের জন্য।

আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) বিধিমতে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি পরায়ণতার’ ধারায় বিভাগীয় মামলা হবার মতো অপরাধ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক স্কুল শিক্ষিকা বলেন,” আমাদের স্কুলের সকল এমপিও শিক্ষকদের বেতন ইএফটিতে চলে এলেও আমার নামে একটা ভুল থাকায় আমার বেতন আটকে যায়।বেতন ছাড় করানোর জন্য ইউএনও স্যারের একটা সাক্ষর প্রয়োজন ছিল। ইউএনও স্যারের অফিসে গেলে সেখানে আব্দুল লতিফের কাছে খরচ দিয়ে ফাইল দিয়ে আসতে বলা হয়।লতিফকে পাচশো টাকা খরচ দিয়ে,চার দিন ইউএনও অফিসের চক্কর কেটে তারপর সাক্ষর পেয়েছি।”
সদর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীর সাথে প্রতিবেদকের কথা হয় ইউএনও অফিসের বাইরে।তিনি বলেন,” ইউএনও স্যার আমাদের স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি। আমাদের স্কুলের যত ধরনের ফাইল আছে সবকিছুতে প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সভাপতি হিসেবে ইউএনও স্যারের সাক্ষর লাগে।আমরা তো আর সরাসরি ইউএনও স্যারের কক্ষে প্রবেশ করতে পারি না আর ইউএনও স্যারকে সবসময় অফিসে পাওয়াও যায় না।এজন্য আমিসহ অন্যান্য স্কুলের স্যাররা লতিফের কাছে ফাইল দিয়ে যাই।খরচপাতি দিয়ে গেলে তিনি সাক্ষর করিয়ে রাখেন।দুশো টাকার নিচে আজ পর্যন্ত কোন সাক্ষর নিতে পারিনি। ” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে ফোন দিলে আব্দুল লতিফ সরাসরি অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।এর কিছুক্ষন পর স্থানীয় এক সাংবাদিক প্রতিবেদককে কল দিয়ে আব্দুল লতিফকে নিজের বড়ো ভাই দাবি করেন এবং এ ব্যাপারে নিউজ না করতে অনুরোধ করেন।

সদর উপজেলা ইউএনও অফিসে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করলে আব্দুল লতিফ প্রতিবেদককে অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের কক্ষে নিয়ে যান এবং কারা অভিযোগ করেছে তাদের নাম জানতে চান।সাক্ষরের বিনিময়ে টাকা নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল লতিফ কৌশলে এড়িয়ে যান।অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন,” দোষত্রুটিতো কমবেশি সবারই আছে। একটু শোধরাবার সুযোগ দিলে ভালো হয়।ইউএনও স্যারকে বলে আমি একটি আভ্যন্তরীণ তদন্তের ব্যবস্থা করতেছি,ভবিষ্যতে আর এগুলো হবে না।”ইউএনও অফিসের সকল সেবা বিনামূল্যে হওয়া স্বত্বেও সাক্ষরের জন্য কেন খরচ দিতে হয় এবং উনার টেবিলে ফাইল দীর্ঘসময় পেন্ডিং থাকে কি-না জানতে চাইলে ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মোঃ ইশতিয়াক ভূইয়া বলেন, ” আমার অফিসে সকল ধরনের সেবা ফ্রী, কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে সে বিষয়ে আমি অবগত নই।আর ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় আমি ডিসি অফিসে যাওয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে যাওয়ার দরুন প্রায়ই অফিসের বাইরে থাকতে হয়।

তবে সারাদিনের কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পর হলেও আমি অফিসে এসে ফাইলে সাক্ষর করি যাতে আমার অফিসে কোন ফাইল এক দিনের বেশি পেন্ডিং না থাকে। আপনি যেহেতু আমাকে অবগত করেছেন, আমি খোজ নিচ্ছি,কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com