আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
এটা কেমন কথা বাহে অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে নদী ভাঙ্গে। এ বার ধরা ৬ বার ভাঙ্গলো মোর বসতভিটা। এখন মানসের জমিত ঘর তুলি আছম। আজ ১৫দিন থাকি রাইতোত ঘুমবার পাম না।
কখন বা মোর ঘর নদীত চলি যায়। সরকার তো নদীর চরত মেলা ঘর তুলি দিছে। যদি ৬ মাসত ২ বার ঘর ভাঙ্গা নাগে, তাইলে ঘর দিয়ে লাভ কি! হ্যামার দরকার যাতে নদী না ভাঙ্গে। বালুর বস্তা ফেলে কি বসতবাড়ি টিকি থাকবে বাহে? উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চরের মোঃ আনছার আলী। নদীর ভাঙ্গন এলাকা আর তার ঘরের দুরত্ব প্রায় ৫০ হাত। এ অবস্থায় রয়েছে আরও কমপক্ষে ১শ’ পরিবারের বসতভিটা। পানির কল কল শব্দে আনছার আলীর মত অনেকের ঘুম নেই বললেই চলে।
তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ায় উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজানে অসময়ে গত ১০ দিন ধরে ব্যাপক হারে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী পারের মানুষজন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। কখন যেন তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এমন উৎকন্ঠায় দিশেহারা কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নেম্বর মোঃ রফিকুল ইসলাম। তার ভাষ্য, গোটা বছর নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। সরকারি ভাবে নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগসহ জিও টিউব ফেলা হলেও তা দিয়ে ভাঙ্গন রোধ সম্ভব হচ্ছে না। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙ্গন রোধ করার দাবি তার।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে প্রতিবছর গড়ে ৫০০ বসতভিটা, ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান তিস্তায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে। একটি পরিসংখানে জানা গেছে, গত ৫ বছরে আড়াই হাজার বসতভিটা, ১ হাজার ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট, ৩০টি ধর্মীয় ও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ভাঙ্গন কবলিত পরিবারের জন্য ত্রান বিতরণ করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি।
হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর গ্রামের মোঃ সোলেমান মিয়া বলেন, চরের প্রতিটি মানুষের বসতভিটা কমপক্ষে ৫ হতে ৮ বার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে সারা বছর নদী ভাঙ্গন চলমান রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার, শ্রীপুর ইউনিয়নের ফুল মিয়ার বাজাররের পূর্বপাশ্বে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সরকারি ভাবে ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ওই এলাকায় দিনের পর দিন নদী ভাঙ্গছে।
উজানের পলি জমে নদী ভরে গিয়ে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারনে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে রুপ দিয়েছে বলেন, হরিপুরের কাশিম বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ.ব.ম. আব্দুল ওয়াহেদ সরকার। তার ভাষ্য, স্থায়ীভাবে নদী ভাঙ্গন রোধ করতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট কোন দিন দূর হবে না।
পানি উজানে কমলে ভাটিতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। বর্তমানে উজানে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘদিন হতে বিভিন্ন সংগ্রাম পরিষদ, এনজিও সংস্থা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি কাজ করলেও আজ পর্যন্ত কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সরকার বলেন, কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জু মিয়া। তার ভাষ্য, নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই। তার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে।
চরের একটি পরিবার বছরে ৪ হতে ৫ বার নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে থাকেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পরেছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com