আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৭৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহ। দু’চোখ যেদিকে যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। আঁকাবাঁকা রাস্তার দু’পাশে প্রকৃতি যেন সেজেছে আপন মহিমায়। এমন নয়নাভিরাম সরিষা ফুলের দৃশ্য, ফুলের গন্ধ, পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর মৌমাছির গুঞ্জন মনকে বিমোহিত করে।
বলছিলাম, গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের তুরকার বিলের কথা। ঋতু বৈচিত্র্যের এই বাংলায় বছরের বিভিন্ন সময় বর্ণিল রঙ আর অনাবিল সৌন্দর্যে ভরে ওঠে এই তুরকার বিল। কখনো রূপালী জলে ভরে যায় বিল, কখনো বা সোনালী ধানের শীষে লাগে বাতাসের দোল। বর্ষায় এ বিল থাকে পানিতে পরিপূর্ণ। বর্ষা শেষে পানি নেমে যায়, ঠিক তখনই কৃষকেরা বিস্তৃত মাঠে কার্তিক মাসে বপন করেন সরিষা। অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফুল আসে, থাকে পৌষ মাস পর্যন্ত।
বর্তমানে এই বিল সরিষা ফুলে পরিপূর্ণ। হলুদের ছোঁয়া যেন মন কেড়ে নেয়। ক্ষেতের দৃষ্টিনন্দন এমন অপরূপ দৃশ্য দেখতে এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন এখানে। এটি যেন হয়ে উঠছে বিনোদন কেন্দ্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, তুরকার বিলসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও নদীর চর এলাকাগুলো সরিষা ফুলের অপরূপ শোভায় হলুদ গালিচা বিছিয়ে যেন অপরূপ সাজে সজ্জিত করেছে পল্লীর প্রকৃতি। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে বাড়ছে প্রকৃতি প্রেমীদের আনাগোনা। প্রজাপতির দল ছুটে বেড়াচ্ছে ফুলে ফুলে। মৌমাছির ভনভনানিতে মুখর সরিষার বিস্তৃত মাঠ। ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হাজারো মৌমাছির দল। সরিষার ভালো ফলনের আশায় কৃষকদের মুখেও ফুটেছে সোনা রাঙা হাসি।
খোলাহাটী ইউনিয়নের কৃষক আমির হোসেন তার নাতিকে নিয়ে মাঠে কাজ করে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, সরিষার আবাদ বাপ-দাদার আমল থেকে করে আসছি। আমরাও করি। এবার ৩ বিঘা জমিতে সরিষা লাগানো হয়েছে। ভালো ফুল এসেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিকেলে মানুষ ঘুরতে আসেন। তবে আগে তেমন মানুষ আসতো না। গত দুই বছর ধরে বেশি আসতে শুরু করেছে।
এই তুরকার বিলের পাশ দিয়ে চলে গেছে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ রাস্তা। বিল সংলগ্ন রাস্তার ধারে রয়েছে একটি পাকুর গাছ। প্রতিদিন বিকেলে এ গাছতলার ভাসমান দোকানদার হাসেম ভাই। সাদা মনের মানুষ তিনি। সরিষা ক্ষেতের অপরূপ শোভা উপভোগ করতে আসা বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এ দোকানে আসে ঝালমুড়ি খেতে। তিনি বলেন, বিকেল হলে মানুষজন এখানে ঘুরতে এসে ছবি তুলে আবার চলে যায়। কৃষকেরাও কাজ করে ক্লান্ত হয়ে গেলে এ গাছের নীচে বসে শরীর জুড়ায়।
স্কুল শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করি। অনেক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন, ছবি তোলেন। বিশেষ করে শুক্রবারে দর্শনার্থীরা স্বপরিবারে আসেন। সরিষা ক্ষেতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তারা ছবি তোলেন। এতে কিছু সরিষা নষ্টও হয়ে যায়। তারপরও কোনো কৃষক তাদের বাঁধা দেন না। এখানকার কৃষকেরা বরং আনন্দ পান এবং উপভোগ করেন এ নয়নাভিরাম দৃশ্য।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com