আনোয়ার হোসেন | শনিবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধায় ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা ২১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল হাজিরাযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে আছে। শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বাহির হবার সময় পর্যবেক্ষণ করার জন্য বসানো হয়েছিল এসব যন্ত্র। গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাজিরা পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ডিজিটাল হাজিরাযন্ত্র ক্রয় করে তা বসানোর নির্দেশ দেয়।
এ নির্দেশ বাস্তবায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সদর উপজেলার ২১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরাযন্ত্রগুলো স্থাপন করা হয়। বাৎসরিক স্লিপ ফান্ডের খরচ থেকে মেশিন প্রতি ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করে এসব যন্ত্র বসানো হয়। এতে মোট ব্যয়ের পরিমান দাড়ায় ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজির ধরণী বাড়ি এনইউ খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান মিয়া জানান, হাজিরাযন্ত্রটি বিদ্যালয়ে বসানো হলেও তা বিকল হয়ে পড়ে আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ২১৮টি বিদ্যালয়ের সব কটি হাজিরাযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে থাকায় ব্যয়িত বিপুল পরিমান অর্থ খোয়া গেলো।
সরেজমিনে লেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেয়ালে ডিজিটাল হাজিরাযন্ত্রটি দেখা যায়। এ সময় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, বিদ্যালয়ে তাঁরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠি পেয়ে ডিজিটাল হাজিরাযন্ত্র বসিয়েছেন। কিন্তু কখনোই কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তারাও হাজিরাযন্ত্র চালু রাখা ও তার তথ্য সংরক্ষণ করার তাগিদ দেননি। ব্যবহার না করার কারণে এখন যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেছে।
পূর্ব কুপতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হানান জানান, তার বিদ্যালয়ের হাজিরাযন্ত্রটি হারিয়ে গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকিরুল হাসান বলেন, অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতে দেরি করেন। অনেকে দুপুরে ছুটি দিয়ে দেন। এ জন্য হাজিরা যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com