কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, ০৩ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৫৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার গংগারহাট বাজার সংলগ্ন কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুস ছামাদ তার আপন ছোট ভাই হানিফ মিয়া ওরফে টাইগার কর্তৃক মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় হামলার শিকার হয়ে চার বছর যাবত নিজের বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। বর্তমানে সরকারি আবাসনের একটি ঘরে স্ত্রী সন্তান এবং পুত্রবধূকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিগত সরকারের সময় বার বার থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও কোন সুরাহা করতে পারেনি। বরং তার ছোট ভাই মাদক ব্যবসায়ী হানিফ টাইগার অর্থের বিনিময়ে প্রশাসন কে ম্যানেজ করে বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা এবং তার পুত্র এবং পুত্রবধূকে ব্যপক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে আব্দুস ছামাদ দীর্ঘ ২২ দিন কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে পূনরায় থানায় মামলা করেন। কিন্তু প্রশাসন কোন পদক্ষেপ না নেয়ায়, তার ছেলে এবং ছেলের বঊ চার বছর আগে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। দীর্ঘ দিন বাড়ি ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা এবং তার স্ত্রী সন্তান । এই সুযোগে বীর মুক্তি যোদ্ধার নিজ হাতে লাগানো বেশ কয়েকটি গাছ কেটে নেয় তার ছোট ভাই মাদক ব্যবসায়ী হানিফ (টাইগার)। কিন্তু সেই ব্যাপারেও থানায় অভিযোগ দায়ের করে কোন লাভ হয় নি তার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় মো: হানিফ মিয়া (টাইগার) ফুলবাড়ি সীমান্তবর্তী গংগারহাটে দীর্ঘদিন যাবত বড় মাদক সিন্ডিকেটে জড়িত। বিভিন্ন সময় গাঁজা এবং ফেন্সিডিলের চালান কুড়িগ্রাম জেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় চোরাচালান করে আসছেন। মাদক চোরাচালানে জড়িত থাকায় বিভিন্ন সময় মাদকের বস্তা বাড়িতে রেখে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ নিজের সম্মান রক্ষার্থে তার ছোট ভাইকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। অন্যাথায় অন্য কোথাও থেকে এসব অবৈধ কার্যক্রম করতে বলেন। কিন্তু তার কথায় কর্ণপাত না করে সে তার অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকায় মুক্তিযোদ্ধা বেশ কয়েকবার তার মাদক ব্যবসার তথ্য প্রশাসন কে অবহিত করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয় মাদক ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া (টাইগার)। ক্ষিপ্ত হয়ে তার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ কে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে গংগারহাট বাজারে বেধড়ক লাঠিপেটা করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখেন। পরে স্থানীয় জনতা উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কে বিচার দিলেও তার ছোট ভাই মাদক ব্যবসায়ী হানিফ এর অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে যান তারা। যার ফলশ্রুতিতে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে নিরবে নিভৃতে দীর্ঘ চার বছর যাবত নিজ বাড়ি ছেড়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সরকারি বরাদ্দকৃত একটি ঘরে নিজ স্ত্রী সহ খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বিচার না পাওয়ায় বর্তমান সরকারের প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার এবং নিজ সন্তান এবং পুত্রবধূকে নিয়ে নিজের বাড়িঘরে ফিরে যেতে প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে গত ০২/০৭/২০২৫ ইং তারিখ ফুলবাড়ি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি। ফুলবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম অভিযোগ পাওয়ার সত্যটা নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছে মৌখিক এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, ওনার উপর যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে আমরা দ্রুত সুস্থ তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।
সাংবাদিক কে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লূত মুক্তিযোদ্ধা এবং তার পুরো পরিবার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন আমরা পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর আস্থা রেখে বলতে চাই তারা যদি আমদের এই বিপদে আমাদের নিজ বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন আমরা সারাজীবন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ সভাপতি মো: খোরশিদুর রহমান সবুজ বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ সাহেবের সাথে যে অমানবিক আচরণ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা শুধু মুক্তযোদ্ধা এবং তার পরিবার নয় গোটা দেশের জন্য লজ্জার। রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তিনি তার নুন্যতম মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে তার মাদক ব্যবসায় জড়িত ভাইকে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com