তাড়াইল ( কিশোরগঞ্জ): | রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে জোরপূর্বক পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৩ নং ধলা ইউনিয়নের উত্তর ধলা গ্রামে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী উত্তর ধলা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ খানের পুত্র মোহাম্মদ মর্তুজ আলী খান ওরফে মাজন মিয়া তাড়াইল থানায় ১২ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং একটি কপি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে দাখিল করেন।
ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার উত্তর ধলা গ্রামের মৃত সানু মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া, ফরিদ মিয়া, আনিস মিয়া, হাদিস মিয়া,ময়না মিয়া এবং একই গ্রামের মৃত মেয়ের ছেলে জুয়েল মিয়া,রুবেল মিয়া, মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে সোহাগ মিয়া, কালা মিয়ার ছেলে আজিজুল মিয়া, আনজুর আলী মুন্সির ছেলে সোনা মিয়া ও মজনু মিয়া এবং মৃত জিন্না মেয়ের ছেলে লিচু মিয়া একত্রে যোগসাজেসে সঙ্গবদ্ধ হয়ে মর্তুজ আলীর জমিতে রোপণকৃত পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়।
কৃষক মর্তুজ আলী জানান, নিজের কয়কৃত এবং সত্য দখলীয় ধলা মৌজায় অবস্থিত আর এস ২১৫২, ২৩৫৪, ২৩৫৩, ২৩৫৬, ২১৪৭, ২১৫১ দাগে মোট ৮০৮ শতাংশ ভূমিতে বোর ধান রোপন করিয়া চাষাবাদ করিয়াছেন। ধান কাটার সময় হওয়ায় প্রতিপক্ষগণ জোরপূর্বক ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করিতেছে টের পেয়ে কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য আবেদন করেন। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে তাড়াইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে একটি চিঠি পাঠান। ওই ১৪০ ধারার বলে তাড়াইল থানার এসআই মনির হোসেন বিগত ২৫শে এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১০ঃ০০ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিবাদীগণকে ধান কাটারত অবস্থায় দেখতে পায়। তিনি তৎক্ষণাৎ নির্দেশ মেনে ধান কাটা থেকে বিরত থাকার জন্য বিবাদীগণকে বলেন এবং একই দিন বিকাল ৪ টায় বাদী বিবাদী উভয়পক্ষকে থানায় নিজ নিজ কাগজ নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন।
একই দিন বিকেল পাঁচটায় তা নিয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তি সহ আমি এবং বিবাদীগণ থানায় হাজির হই। তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব্বির রহমান নিজে উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষের কথাবার্তা শুনে ধান ধলা ইউনিয়নের একই গ্রামের আবুল কাশেম জয় এবং জাহাঙ্গীর আলমকে কর্তন বহির্ভূত ধান কেটে বিক্রয় করে টাকা নিজ জিম্মায় রাখার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং পরবর্তীতে এক সপ্তাহের মধ্যে সার্ভেয়ার দ্বারা জমির পরিমাপপূর্বক নিজ নিজ জমির ধানের টাকা দেওয়া হবে। উভয়পক্ষ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরেও বিবাদী পক্ষ একই দিন রাতের আঁধারে জমির ধান কেটে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমি এবং জিম্মাদার দুইজন সহ থানায় হাজির হইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ঘটনা বলার পর তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বলেন।
ভুক্তভোগী মর্তুজ আলী খান জানান, আমি এই জমি চাষাবাদ করে সারা বছর নিজের পরিবারের খাদ্যের যোগান দেই। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
এ ব্যাপারে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব্বির রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকার গণ্যমান্য লোকসহ বাদী এবং বিবাদী কে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটা ফয়সালা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এক পক্ষ এটাকে অবমাননা করে রাতের আঁধারে ধান কেটে নিয়ে গেছে। আমি ভুক্তভোগী মর্তুজ আলীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করেছি।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com