নিজস্ব প্রতিবেদক: | শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কালিজানা গ্রুপ জলমহালে ভিতরে মনাই নদীতে জাল দিয়ে প্রকাশ্যে চলছে মৎস্য নিধন করছে।
এতে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালিজানা গ্রুপ ফিসারী নামক জলমহালটি হুমকির মুখে পড়েছে। আওমীলীগ সরকার পতনের পর জেলা বিএনপি সদ্যস জুলফিকার আলী ভুট্টু ও সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া এবং ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পদক মো. হামিদুল ইসলাম রতন মেম্বারের নির্দেশে সেলবরষ ইউনিয়নের উওর বীর গ্রামের বাসিন্দা ও ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি এম আর খানের ছোট ভাই হুমায়ুন খান ও ফুফাত ভাই আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ বড় জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছেন । এতে করে মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে । এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মী ও এলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ এর চার নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, নদী-নালা, খাল-বিলে স্থায়ী স্থাপনার মাধ্যমে (ফিক্সড ইঞ্জিন) মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ। এমনটি ঘটলে স্থায়ী স্থাপনা অপসারণ এবং বাজেয়াপ্ত করা যাবে। অথচ ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সামনে নদীতে বড় জাল দিয়ে মাছ নিধন চলছে রহস্যজনক কারণে উপজেলা প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কালিজানা গ্রুপ জলমহালে ভিতরে বাদশাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সামনের নদীতে জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে যেভাবে ফাঁদ পাতা হয়েছে তাতে সব ধরনের মাছ আটকা পড়ছে। ধরা পড়ছে মাছের পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘বীর মৌজাস্থ’ ২৩০৭ দাগে ৬ একর ৩০ শতাংশ নদী হুমায়ুন খান নামক এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খাস-কালেকশনে ইজারায় বন্দোবস্ত দেয় উপজেলা প্রশাসন। হুমায়ুন খান হলেন, ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি এম আর খানের ছোট ভাই ও আব্দুল আজিজ তার ফুফাত ভাই। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই হুমায়ুন ও আব্দুল আজিজের লোকজন ওই নদীতে জাল দিয়ে দিনরাত লাখ-লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।
সেলবরষ ইউনিয়নের উওর বীর গ্রামের বাসিন্দা ও ধর্মপাশা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক হামিদুল ইসলাম মিলন বলেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জেলা বিএনপি সদ্যস জুলফিকার আলী ভুট্টু ও সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া এবং ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পদক মো. হামিদুল ইসলাম রতন মেম্বারে পৃষ্ঠপোষকতা ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি এম আর খানের ছোট ভাই হুমায়ুন খান ও মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বাদশাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সামনে নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে দিনরাত লাখ-লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।
এতে করে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালিজানা গ্রুপ ফিসারী নামক জলমহালটি হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয় স্থানীয় বিএনপির ওই তিন নেতার পৃষ্ঠপোষকতা মাদক কারবারি আব্দুল আজিজ প্রকাশ্যে মাকদ ব্যবসা পরিচানা করছে।এতে করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জেলা বিএনপি আম ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দর কাছে জোর দাবি জানাই তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য । পামাপাশি জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপি সদস্য জুলফিকার আলী ভুট্টু ও সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া এবং ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পদক মো. হামিদুল ইসলাম রতনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একাধিক বার কল করা হলেও কল রিসিভ না করা বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।
ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম রহমত বলেন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একাধিক বার কল করা হলেও কল রিসিভ না করা বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি মৎস্য কর্মকর্তাকে বলছি দ্রুত অভিযান পরিচালনা করার জন্য।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, এ ব্যাপারে আমি ইউএনওর সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com