শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নারীদের ঘাম ঝরানো শ্রম, কিন্তু কৃষিজমির মালিকানা পুরুষের হাতে

আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ   |   শুক্রবার, ০৭ মার্চ ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৯২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নারীদের ঘাম ঝরানো শ্রম, কিন্তু কৃষিজমির মালিকানা পুরুষের হাতে
১২

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি নারী কৃষি শ্রমিকরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে-ঘাটে তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম চোখে পড়ার মতো। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই শ্রমের ন্যায্য স্বীকৃতি না থাকায় কৃষিজমির মালিকানায় তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়লেও জমির মালিকানা এখনো প্রধানত পুরুষদের হাতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কৃষিজমির ৯০ শতাংশের বেশি পুরুষদের নামে নিবন্ধিত। অন্যদিকে, নারীরা যেসব জমির মালিক, তার বেশিরভাগই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এবং সেই জমির উপর তাদের সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা প্রায় নেই।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কৃষিশ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, “আমরা দিনভর মাঠে কাজ করি, ধান লাগাই, কাটাই, মাড়াই করি, কিন্তু জমির মালিকানা কখনো আমাদের নামে হয় না। স্বামী বা শ্বশুর-শাশুড়ির নামে জমি থাকে। এমনকি অনেক সময় বাবার সম্পত্তিও আমরা পাই না।”

নারীদের এই বঞ্চনার পেছনে রয়েছে সামাজিক ও আইনি প্রতিবন্ধকতা। যদিও নারী উত্তরাধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃত, তবে সামাজিক রীতি ও পরিবারিক চাপে অনেক নারীই তাদের জমির দাবি করতে পারেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে জমির মালিকানায় নারীদের অংশীদারিত্ব বাড়ানো জরুরি।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন জমির মালিকানায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, নারী কৃষি শ্রমিকদের ভূমির মালিকানা নিশ্চিত না হলে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সরকার নারী কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে জমির মালিকানায় নারীদের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর জন্য আরো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

নারীর ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই বৈষম্য দূর করতে নীতি-নির্ধারকরা কতটা উদ্যোগী হন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com