মুকুট রঞ্জন দাস,তাড়াইল(কিশোরগঞ্জ): | মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৩৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা গ্রামের প্রবীন জননেতা,আজীবন সংগ্রামী,ভাষা সৈনিক,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,কারা নির্যাতিত নেতা প্রয়াত গঙ্গেশ সরকারের প্রয়ান দিবস নীরবে নিভৃতে পারিবারিকভাবে গতকাল ১লা বৈশাখ ১৪৩২ বাংলা (ইংরেজী ১৪ এপ্রিল ২০২৫) পালিত হয়।
আজীবন জননেতা প্রয়াত গঙ্গেশ সরকার ব্যাক্তিজীবনে ন্যাপ-কমিউনিস্ট তথা প্রগতির কিংবদন্তি হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।১৯১৮ সালের দিকে দামিহা গ্রামের গঙ্গাধর সরকারের ঘরে জন্ম নেন গঙ্গেশ সরকার। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন জনদরদী ও মেহনতি মানুষের সুখ-দু:খের সাথী। তৎকালীন বৃটিশ বিরোধী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের লড়াকু সংগঠন” যুগান্তরের “স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা নিরোধ চক্রবর্তীর সংস্পর্শে এসে কিশোর বয়সেই গঙ্গেশ সরকার গোপন রাজনীতির সাথে ” কুরিয়ার ” (বার্তাবহ) হিসেবে কাজ শুরু করেন। ৪০ এর দশকে সরাসরি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদেন এবং ১৯৪৬ সালে জীবনের প্রথম কারাগারে যান। ১৯৪৮ সালে তিনি কমিউনিষ্ট পার্টির তৎকালীন পাকিস্তান বিরোধী ” এ আজাদী ঝ্যুটা হ্যায় – লাখো ইনসান ভূখা হ্যায় ” সৈনিক হিসেবে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন।
৫২ ভাষা আন্দোলন ও ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সক্রিয় থেকে ও দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন। ১৯৫৬ সালে ৯২ (ক) ধারামতে তিনি পূনরায় গ্রেপতার হয়ে কারাগারে যান। ১৯৫৭ সালে মাওলানা ভাষাণীর নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি( ন্যাপে)যোগদান করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে অন্তরিন ছিলেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় আবারও গ্রেফতার হয়ে প্রায় ২ বছর কারাগার বরন করেন । ১৯৬৭ সালে ওয়ালী খান ও অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদের নেতৃত্বে গঠিত রিকুইজিশন ন্যাপের সাথে একাত্ম হন।
জননেতা গঙ্গেশ সরকার ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিবার পরিজনদের ফেলে রেখে ন্যাপ – কমিউনিটি পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নের অসংখ্য নেতা -কর্মীদের নীয়ে ভারতে চলে যান এবং মুক্তি যুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীননতা সংগ্রামের সময় ফেলে রেখে যাওয়া স্ত্রী রেবা রানী সরকার ৩ ছেলে ১ মেয়েকে নীয়ে কঠিন এক জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মাঝ দিয়ে এই দূরাবস্থার মাঝেই অসংখ্য নেতাকর্মীদেরকেও সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। কারো কোন খোঁজ নেই এর মাঝ দিয়ে যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে রেবা রানী সরকার সন্তানাদি নিয়ে মহিশখোলা হয়ে ভারতে যান। এ যেন বিরল এক ইতিহাস যা প্রকাশ করার কোন সুযোগ নেই।
স্বাধীনতা সংগ্রামের পর দেশ পূনর্গঠনে ভূমিকার পাশাপাশি দামিহা ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে শেষ বারের মতো গ্রফতার হয়ে প্রায় ২০ মাস ময়মনসিংহ কারাগারে কাঠান। ৮০ র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেন জননেতা গঙ্গেশ সরকার।
অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদের নেতৃত্বাধীন ন্যাপের জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে জননেতা গঙ্গেশ সরকার তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, মওলানা ভাষানী, পশ্চিম বঙ্গের মখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদ, মনি সিংহ, ত্রলৌক্যনাথ চক্রবর্তী মহারাজা সহ অসংখ্য জাতীয় নেতাদের সাহচর্যে থেকেছেন।
গোটা রাজনৈতিক জীবনে আদর্শীক – দেশ- প্রেমিক রাজনীতিই যার একমাত্র সম্বল তার প্রয়ান দিবস পালিত হলো পারিবারিক ভাবে নিরবে নিভৃতে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com