আনোয়ার হোসেন | সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সিলেটের কানাইঘাটের শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিন; বয়স ছয় বছর। তার নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক)। ছোট্ট মুনতাহার খোঁজ পেতে তৎপর হয়ে পড়ে দেশ-বিদেশের সবাই।
ফুটফুটে প্রাণচাঞ্চল্য হাসি খুশী মেয়েটি ছিলো পুরো পরিবারের আদরের। তবে বাসার সবার অগোচরে বাড়ির উঠান থেকেই নিখোঁজ হয় শিশুটি। মুনতাহাকে ফিরে পেতে গেলো ৭ দিন ধরেই অধীর অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। কিন্তু সে ফিরলো ঠিকই, তবে জীবিত নয়; লাশ হয়ে।
রোববার নিখোঁজ শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনের মরদেহ দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ। বিলাপ করছেন বাবা-মা। ফুটফুটে ওই শিশুটি হত্যায় শুধু স্বজনরা নয়, কাঁদছে দেশবাসী, কাঁদছে নেটিজেনরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেমে আসে শোকের ছায়া।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় ক্ষোভে তোলপাড় নেটদুনিয়া। ফেসবুকে মোঃ রুবেল বাবু লিখেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্ত মূ্লক শাস্তি চাই, এই খুনি ডাকাতদের।
আব্দুল বাসেত লিখেছেন, প্রিয় বোন মুনতাহা।ওপারে ভালো থেকো। শুধু কভারেই সীমাবদ্ধ নয় আমার এ হৃদয়ে গেঁথে রেখেছি তোমার স্মৃতি, মনে থাকবে যতদিন বেঁচে থাকবো। আল্লাহ তাআলা তোমার বাবা মা সহ আত্মীয়-স্বজন সকলকে সবরে জামিল দান করুক। মোঃ মনজুর আলম লিখেছেন, এই ছোট্ট মুনতাহার কি অপরাধ ছিল ওকে কি অপরাধে মারা হলো। ওতো নিষ্পাপ শিশু অবুঝ কোন বুঝ নাই।
বড়রা অন্যায় করলে বড়দেরকে শায়েস্তা কর কিন্তু এই শিশুকে কেন মারা হলো? এদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক দেশে আইন বলতে কি কিছুই নেই? প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আলি মুন্না লিখেছেন, এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যারা এরকম কাজ করে যেন ইতিহাসে বিরল হয়ে থাকে ।
আমাদের দেশে আইন খুবই দুর্বল তাইতো একের পর এক এরকম দুর্ঘটনা আমরা শুধু দেখেই যাচ্ছি অথচ এর শেষ কোথায় আদৌ আমরা জানি না। এমএ নাঈম দুদু লিখেছেন, কত বড় অমানুষ এবং নিষ্ঠুর হলে এমন নেক্কারজনক ঘটনা ঘটানো যায়। খুবই মর্মাহত বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম ।
জানা যায়, গেলো ৩ নভেম্বর সকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরে মুনতাহা। এরপর পাশের বাড়িতে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে যায়। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেনি ছোট্ট মুনতাহা। প্রিয়মুখটির সন্ধান পেতে স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও পায়নি।
অবশেষে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তার বাবা। শিশুটির সন্ধান পেতে জোর তৎপরতা চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। অবশেষে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com