শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নেত্রকোণায় বোরো মৌসুমের শুরুতেই সারের সংকট তৈরীর পায়তারা

আসাদুজ্জামান তালুকদার:   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১৪৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নেত্রকোণায় বোরো মৌসুমের শুরুতেই সারের সংকট তৈরীর পায়তারা
১৩

নেত্রকোণায় যথাযথ মনিটরিং না থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বোরো মৌসমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে সারের কৃত্রিম সংকট। ❝বাটপার জাহাঙ্গীর❞ নামে পরিচিত এক খুচরা সারের ডিলারের গল্প দিয়েই শুরু করি আজকের মত। জেলার বারহাট্টা উপজেলার তেঘরিয়া বাজার এলাকার জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে বাটপার জাহাঙ্গীর তার এলাকার আশেপাশের কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশী দাম রাখছে।

পাশাপাশি এক জেলার সার আরেক জেলায় পাচার করে কৃত্রিম সারের সংকট তৈরী করছে। কখনও গণমাধ্যম কর্মীদের বন্দুক সদৃশ্য বস্তু পকেটে রেখে বিভিন্ন মানুষকে হুমকি দিচ্ছে, কখনও কোন এক সচিবের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করছে। এবার যাবো সারাজেলার সমীকরণে, শেষে আজকের রিপোর্টের সাথে বাটপার জাহাঙ্গীরের গল্প সামনে আনার কারন খুলে বলবো। বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় থাকা ২৪৭ জন ডিলারসহ শতশত খুচরা সার ব্যবসায়ীদের নামে। অসাধু সার ব্যবসায়ীরা অবৈধপন্থায় নিজে লাভবান হওয়ার নিয়ে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ করেছেন কৃষক ও বর্গাচাষী, খুচরা সার বিক্রেতাগণ।

তাদের অভিযোগ বিএডিসি ও বিসিআইসি তালিকা ভুক্ত ডিলারগণ পূর্বধলা শ্যমগঞ্জ বাজার মোহনগঞ্জ,মদন জেলা শহরের অজহর রোড ও জেলা সদরের শহীদ মিনার মোড়ে এরা সেন্ডিকেটের মাধ্যমে সরাসরি সারের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।

বাজারে ডিএপি সার ও এমওপি সার না থাকলেও ১২৫০ টাকা দিলে সার পাওয়া যায়। একেক জন ডিলারের ৪ থেকে ৫ ডিলারের মালিকানা হিসেবে রয়েছেন। কেউ কেউ ডিলারশিপ ভাড়া দিয়েছেন। খুচরা ডিলারদের সরকারি হিসাব অনুযায়ী সার দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে থাকলেও গোডাউন এবং দোকান রয়েছে শহরে। প্রতি ইউনিয়নে নির্ধারিত ডিলাররা সার সরবরাহের হিসাব, বিক্রয়, স্টক রেজিস্টার, ক্যাশ মেমোসহ মূল্য তালিকার কোনো নিয়ম কানুন তোয়াক্কা করছেনা। ডিলারদের তালবাহানায় কৃষক ও বর্গাচাষিগণ অতিরিক্ত দামে সার ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

সরকারের নির্ধারিত দর অনুযায়ী প্রতি বস্তা মূল্য ইউরিয়া ১৩৫০, খুচরা ২৭ টাকা, টিএসপি ১৩৫০, খুচরা ২৭ টাকা কেজি , এমওপি ১০০০, খুচরা ২০ টাকা কেজি,ডিএপি ১০৫০, ২১ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও ডিএপি সার বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ টাকা দরে। খুচরা হিসেবে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা থেকে ২৮ টাকা, এমওপি সার বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা দরে। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকায় । সার কেনা বেঁচায় নেই কোনো মনিটরিং। সারের বাজারের অতিরিক্ত দামে সার ক্রয় করে বিপর্যয়ে পড়ছেন কৃষকগণ।

জেলার কৃষকরা আশংকা করছেন বোরো ফসলের মাঝা মাঝি সময়ে সারের সংকটে জমির ফসল নিয়ে কৃষকরা পড়তে পারেন বিপাকে। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বারহাট্টা উপজেলার বি সি আইসির মনোনীত সার ডিলার চিরাম ইউনিয়নের সুশ্রী রানী সাহা রায় ও দুর্গাপুর উপজেলার বি সি আই সি ডিলার মেসার্স গোপাল সেনের বিরুদ্ধে।

দা বিজনেস আইয়ের সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়,
সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের একদিলের মোড়ের আবুল কালাম, বিশিউড়া বাজারের খুচরা ডিলার সবুজ মিয়া, মেদনী ইউনিয়নের দিগজান বাজারের কৃষান ট্রেডার্সের খুচরা বিক্রেতা মোঃ মাহবুব আলম খান দৌলত, চল্লিশা বাজারের মোঃ রাজিব মিয়া , আমতলা বাজারের খুচরা বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান, ডিলার রতন শাহ, চচুয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ভবতোষ, কে-গাতী ইউনিয়নের মুক্তির বাজারের আবুল ওহাব ছালেক মিয়া, মোহনগঞ্জ উপজেলার বিআইডিসি সার ডিলার তন্নি ট্রেডার্স, সমাজ বাজারের রহুল আমিন, খুরশিমুল বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা ইয়াহিয়া, ডিলার নিরদ শাহ, ঝিমটি বাজারের দুলাল মিয়া ও ডিলার রাধা চরণ, আটপাড়া উপজেলার নাজিরগঞ্জ বাজারের খুচরা বিক্রেতা পাঞ্জু মিয়া, কোনাপাড়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা সুমন শাহ, বারহাট্টা উপজেলার সিংধা বাজারের খুচরা বিক্রেতা খোকন মিয়া, বারহাট্টা বাজারের খুচরা বিক্রেতা আবুল কাশেম ও ডিলার রাধা চরণ, খুচরা বিক্রেতা ভজেষ পাল, পূর্বধলা উপজেলার ঝানজাইল বাজারের সাব ডিলার বাবুল মিয়াসহ জেলার ৮৬ টি ইউনিয়নের শতশত সার বিক্রেতা ও ডিলারের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

জরুরী ভিত্তিতে নিয়মিত মনিটরিং করলে হয়তো কৃষকগণ বোরো ফসলের সারের অতিরিক্ত মুল্য ও কৃত্রিম সার সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।

এবিষয়ে হাওর বাচাঁও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোনায়েম খান দা বিজনেস আইকে জানান, জেলার ৮৬ টি ইউনিয়নে সারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিছু অসাধু সার ডিলার ব্যবসায়ীরা অবৈধপন্থায় নিজেরা লাভবান হওয়ার মনমানসিকতা নিয়ে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সার ডিলারদের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এব্যাপারে জেলার সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস দা বিজনেস আইকে জানিয়েছেন, সারের কৃত্রিম সংকটের কোন খবর পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত দরে কেউ সার বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপসংহারে উপরে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাটপার জাহাঙ্গীরের বিস্তারিত বলে দায় এড়ানোর পালা। বলছিলাম বারহাট্টার বাটপার জাহাঙ্গীরের কথা, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে একেকবার একেক রুপ পাল্টে নিরীহ গ্রামের কৃষকদের অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করা, কখনো কোন এক সচিবের নাম ভাঙ্গিয়ে চোরাইচিনির ব্যবসা, অবৈধ মাদক চোরাচালান ব্যবসাসহ অনেক অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত এসব ❝বাটপার জাহাঙ্গীর❞ রাই নিজেরা লাভবান হতে কৃত্রিম সারের সংকট তৈরী করে, এদেরকে দমনে জরুরী যুগোপযোগী ব্যবস্থা দরকার। সব ব্যবসায়ীরা খারাপ না, সবাই সব ব্যবসায় অসৎ না। কিন্তু, সব ব্যবসায়েই অসৎ কিছু লোক আছে বাটপার জাহাঙ্গীর এর মতো, এদের নজরদারিতে আনা হোক।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com