শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নেত্রকোণায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর, তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন

আসাদুজ্জামান তালুকদার   |   সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নেত্রকোণায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর, তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন
৮০

নেত্রকোণার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক তদারকি এবং তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

রোববার (১২ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে নেত্রকোণা শহরের জয়নগর এলাকায় অবস্থিত জেলা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত সজীব মিয়া (৩৫) শহরের আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন পিকআপচালক ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় গ্যাসজনিত ব্যথা নিয়ে সজীব মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পাল প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে এ ঘটনার পর হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. একরামুল হাসানের দায়িত্বকালে ডিজিটাল মনিটরিং সফটওয়্যারের কার্যকারিতা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, রোগীসেবা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং রোগীদের সঙ্গে পেশাগত আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।


হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্যই রয়েছে। চিকিৎসায় হাসপাতাল বা কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি বা ত্রুটি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই, কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. একরামুল হাসান সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যে রোগীকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনদের ময়মনসিংহে নিতে বিলম্ব হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চিকিৎসকরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়।”
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সদর ফাঁড়ির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
তবে রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও রোগীর স্বজনরা। তাদের মতে, শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং জেলা সদর হাসপাতালের সেবার মান, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতেই প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com