পটিয়া, চট্টগ্রাম: | মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগে সরগরম স্থানীয় জনমহল। মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্যের ফলে ফসলি জমি ও পরিবেশের ওপর চরম প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও থামছে না এই অবৈধ কার্যক্রম।
পটিয়ার হাইদগাঁও, ধলঘাট, খরনা, ও শ্রীমাই আমতল এলাকার ফসলি জমি ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে একটি চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সামনেই এসব ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
চক্রটির কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন কথিত “টোকেন নুরু,” যিনি প্রশাসনের অনুমতির কথা বলে ট্রাকপ্রতি ৩-৪ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছেন। এ বিষয়ে চক্রের একজন সদস্য জানান, নুরু ও জনৈক সাংবাদিক মিলে ও স্থানীয়দের ম্যানেজ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাইদগাও ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবণ কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক জব্দ করা হয় এবং মো. সুমন নামে এক ট্রাকচালককে আটক করা হয়। বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫/১ ধারা অনুযায়ী সুমনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একটি জমির মাটি পুনরায় উর্বর হতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগে। অন্যদিকে পাহাড় কেটে সমতল করায় স্থানীয় জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নেতা সাংবাদিক আলিউর রহমান বলেন, “কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলার ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়”।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবণ কুমার বিশ্বাস বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।”
সচেতন মহলের মতে, এভাবে কৃষিজমি ও পাহাড় কাটার ফলে একদিকে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে। তারা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যক্রম জোরদার হলেও সমস্যার মূল সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ প্রয়োজন। পরিবেশ ও কৃষি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ, এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই সমস্যা সমাধান করতে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com