শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল, ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: স্বাস্থ্যমন্ত্র

শফিকুল।ইসলাম।বাদল   |   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল, ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: স্বাস্থ্যমন্ত্র

দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ডায়ালাইসিস সুবিধা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ডাকবাংলোয় সরকারি সফরকালে সাংবাদিকদের এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম উদ্বোধন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করতে কসবা সফর করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫১ শয্যার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০টি মেশিন নিয়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। সেখানে স্থানীয়ভাবে ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারবেন। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সেবার জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যা রাখা হবে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং উন্নত প্যাথলজি সেবার ব্যবস্থাও থাকবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডরমিটরিসহ সাড়ে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে চিকিৎসকদের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। উপজেলা হাসপাতাল উন্নীতকরণের প্রকল্পের পাশাপাশি এসব ভবন নির্মাণের দরপত্রও একই সময়ে আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।ওয়ার্ড পর্যায়ে পুরোনো প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মেডিকেল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে মিডওয়াইফরা দায়িত্ব পালন করবেন। সেখানে নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং, রক্ত পরীক্ষা, জ্বর এবং উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।রোগীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হবে কার্ড। রোগের ধরন ও জটিলতা অনুযায়ী রোগীরা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা কিংবা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবে।দেশে ডায়ালাইসিস সেবার পরিধি বাড়াতে এক হাজার ১০০টির বেশি মেশিনের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে। এতে যেসব জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে মোট ৬০টি এবং অন্য জেলাগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে।এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঁচটি রোবোটিক সার্জন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।স্বাস্থ্য খাতে জনবলসংকট কমাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি জানান, আগামী ১ নভেম্বর সাড়ে ৪০০ চিকিৎসক যোগ দেবেন। পাশাপাশি আরও পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে।এ ছাড়া ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছর ৪১ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।সরকারি হাসপাতালের রোগীদের হয়রানি করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এ চক্রকে বিগত সরকারের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনও এ বিষয়ে কাজ করছেন।নিয়ম না মেনে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তালা লাগানো ও সিলগালা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার নতুন কোনো ক্লিনিকের অনুমতি দেয়নি। হাসপাতালের সামনে সম্প্রতি কোনো ক্লিনিক চালু হয়ে থাকলে সেটির অনুমোদন আগে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে শর্ত পূরণ না করা ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসকদের সঙ্গে ফার্মেসি ও অটোরিকশাচালকদের যোগসাজশে রোগীদের ওষুধ নির্ধারণ কিংবা অন্যত্র পাঠানোর অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাস পার হয়েছে। এর মধ্যে চার মাস এমনিতেই চলে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সব সেবার মান উন্নত করা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সময়ে লুটপাটের কারণে স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা নিম্নমুখী হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে দুর্নীতিমুক্তভাবে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার জন্য মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের দিয়েছে এবং ভালো ওষুধ বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে যাওয়ার পথে রোগীদের ওষুধ পেতে দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক আবু সাইদ, পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর অতিক্রম করেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও

.

Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com