শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সিডরের স্মৃতি থেকে COP31: উপকূলের কণ্ঠ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান বরগুনার মুন্না

মো:সৌরব বেতাগী বরগুনা প্রতিনিধি :-   |   রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সিডরের স্মৃতি থেকে COP31: উপকূলের কণ্ঠ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান বরগুনার মুন্না

নিজস্ব উদ্যোগে তৃণমূলের তরুণদের সংগঠিত করা থেকে জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু নেতৃত্ব প্রায় সাত বছরের পথচলায় খাইরুল ইসলাম মুন্নার লক্ষ্য এখন বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের সংকট ও দাবি আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা। নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন COP31-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নে জন্ম মো. খায়রুল ইসলাম মুন্নার। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় তিনি ছিলেন শিশু। সেই দুর্যোগে তাঁর পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। উপকূলের মানুষের জীবনে দুর্যোগের প্রভাব, অনিশ্চয়তা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম তাঁর কাছে তাই কেবল দূর থেকে দেখা কোনো বাস্তবতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতাও।

শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা আর উপকূলের মানুষের জীবনসংগ্রাম তাঁকে ধীরে ধীরে ভাবিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো নিয়ে। কেন উপকূলের মানুষ বারবার দুর্যোগের ক্ষতির মুখে পড়েন? কেন তাঁদের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি? আর তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দাবিগুলো জাতীয় পর্যায়ে কতটা গুরুত্ব পায়?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হন মুন্না। তাঁর পথচলা সহজ ছিল না। উপকূলের একটি উপজেলা থেকে কাজ শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচয় তৈরি করা, তরুণদের সংগঠিত করা এবং জলবায়ু নিয়ে কাজের সুযোগ তৈরি করতে তাঁকে ধাপে ধাপে এগোতে হয়েছে। প্রায় সাত বছরের এই প্রচেষ্টায় তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের কাজের পরিসর ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা।

এবার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন COP31-এ অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের বাস্তবতা, জলবায়ু অভিযোজনের চাহিদা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক আলোচনায় তুলে ধরা।

পরিবার ও শৈশবের অভিজ্ঞতা

মুন্নার বাবা মো সিদ্দিকুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। মা খাদিজা আক্তার বেবী গৃহিণী। তাঁর ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম মান্না একজন শিক্ষার্থী। তিনিও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন।

পরিবারের অভিজ্ঞতা, নিজের বেড়ে ওঠা এবং উপকূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ মুন্নার কাজের ভাবনাকে প্রভাবিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, উপকূলের সংকটকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মানুষের জীবিকা, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত।

উপকূলের মানুষের এসব অভিজ্ঞতা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার তাগিদ থেকেই তাঁর কাজের পরিধি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে।

সাত বছরের প্রচেষ্টা, নিজস্ব সংগঠন গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি

স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে মুন্নার পথচলা শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সংগঠিত উদ্যোগ ও দক্ষ তরুণ নেতৃত্ব। সেই ভাবনা থেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (GPYDS)। বর্তমানে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

GPYDS-এর কাজের কেন্দ্রে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং শিশু, কিশোরী ও নারীদের অধিকার। বরগুনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উদ্যোগটি এখন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এক হাজারের বেশি তরুণ স্বেচ্ছাসেবক।

তরুণদের সংগঠিত করা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয় সংগঠনটি। জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক কাজের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সামাজিক উন্নয়নেও উদ্যোগ রয়েছে তাদের।

একটি উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগঠন গড়ে তোলা এবং সেটিকে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা মুন্নাকে শিখিয়েছে, শুধু আগ্রহ থাকলেই কাজ এগিয়ে নেওয়া যায় না। প্রয়োজন মানুষের আস্থা অর্জন, দল গঠন, পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।

তাঁর কাছে GPYDS শুধু একটি সংগঠন নয়; উপকূলের তরুণদের নিজেদের এলাকার সমস্যা নিয়ে কাজ করার এবং নেতৃত্ব দেওয়ার একটি সুযোগ।

উপকূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু নেতৃত্ব

তৃণমূলের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করাই এখন মুন্নার কাজের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, উপকূলের মানুষ প্রতিদিন যে সংকটের মুখোমুখি হন, তার অনেক কিছুই নীতিনির্ধারণী আলোচনায় যথেষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় না।

এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি বিভিন্ন যুব ও জলবায়ুবিষয়ক উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। ২০২৬ সালে তিনি LCOY Bangladesh-এর যোগাযোগ ও গণমাধ্যমবিষয়ক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ বরিশাল বিভাগের সভাপতি এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি প্যানেলের সদস্য এবং কান্ট্রি ম্যানেজমেন্ট টিমে যুব প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে তরুণদের মতামত, যোগাযোগ এবং জলবায়ুবিষয়ক আলোচনার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়নের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি জলবায়ু সংকটের তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার বিষয়েও আগ্রহী।

তাঁর কাছে জলবায়ু নেতৃত্বের অর্থ শুধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া নয়। বরং স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা, তাঁদের দাবি তুলে ধরা এবং সেই দাবির সঙ্গে নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সংযোগ তৈরি করাও এর অংশ।

COP31-এ উপকূলের কথা তুলে ধরার প্রস্তুতি

২০২৬ সালের নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘে

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও

.

Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com