আব্দুস সালাম মোল্লা: | শুক্রবার, ০১ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৭৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরে অম্বিকাপুর কাইজার কোলে পলো বাওয়া উৎসব’ গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্য। আগে এই উৎসব সচরাচর দেখা গেলেও বর্তমানে তা খুব একটা দেখা যায় না। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের কাইজার কোলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পলো উৎসব। হাজারও মানুষ অংশ নেয় পলো দিয়ে মাছ ধরার এ উৎসবে।
কাইজার কোলে পলো দিয়ে মাছ ধরছে নানান বয়সী মানুষ।
কাইজার কোলে পলো দিয়ে মাছ ধরছে নানান বয়সী মানুষ।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকাল ৭টায় ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের কাইজার কোলে পলো উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয় যুব সমাজ। পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব দেখতে কোলের পাশের চারপাশের রাস্তায় অবস্থান নেয় বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এ ধরনের উৎসবে এসে খুশি আগতরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সূর্যোদয়ের আগেই হাজারও মানুষের ঢল নামে কাইজার কোলে। কারো হাতে পলো, কারো হাতে জালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ। দূর দূরান্ত থেকে পলো হাতে আনন্দ ফুর্তি করতে করতে মাছ ধরার উৎসবে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ।
মাছ ধরতে আসা আবুল বাশার বলেন, ‘গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। ছোটো বেলায় পলো দিয়ে মাছ ধরতাম। বহু বছর পর পলো নিয়ে মাছ ধরতে এসেছি। মাছ না পেলেও অনেক আনন্দ করতে পেরেছি।’
সাইদুর রহমান নামে একজন বলেন, ‘মাইকিং শুনে এখানে এসেছি। অনেক মানুষ এসেছে মাছ ধরতে, খুবই ভালো লাগছে। অনেকদিন এভাবে মাছ ধরিনি। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হলে ভালো হবে।’
জাল, পলো ছিপ নিয়ে মাছ ধরা উৎসবে গ্রামবাসী মাছ ধরা দেখতে এসেছেন গৃহবধূ বৃষ্টি আক্তার। তিনি বলেন, ‘ছোটো বেলায় কখনো পলো দিয়ে মাছ ধরতে দেখিনি, জীবনে প্রথমবারের মতো পলো দিয়ে অনেক মানুষের মাছ ধরা দেখতে পেলাম। খুবই ভালো লেগেছে।’
মাছ ধরতে আসা মজিবুর রহমান বলেন, ‘মাছ ধরার কথা শুনতে পেয়ে গতকাল পলো কিনেছি। এই উৎসবের কারণে পলো একটু দাম বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। ২০০ টাকার পলো ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। তারপরও ভালো লেগেছে, অনেকদিন পর এমন উৎসবে যোগ দিতে পেরে।’
পলো উৎসবের আয়োজক মো. মুরাদ হোসেন জানান, গত দুই দিন যাবত পলো উৎসবের মাইকিং করা হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া এমন উৎসবে যোগ দিয়েছেন হাজারও মানুষ। এই কোলে কারেন্ট জাল, ভেসাল দিয়ে মাছ মারা হতো। প্রশাসন এটা বন্ধ করায় আমরা এই উৎসবের আয়োজন করেছি। হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই আয়োজন। প্রতিবছর যাতে এ ধরনের আয়োজন করতে পারি, সেজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য পলো উৎসব ধরে রাখতে প্রতিবছর আয়োজন করা হোক এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় জনসাধারণের।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com