আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধায় একসময় খুব বেশি ফুল চাষ হতো না। ২০১৪ সালে সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক কৃষক ফুল চাষ শুরু করেন। এখন পুরো জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।
১০ বছর আগের কথা। অন্যান্য কৃষকের মতো জমিতে ধান ও পাট চাষ করতেন তিনি। এসব ফসল বিক্রি করে যা আয় করতেন, তা দিয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হতো তাঁর। এ রকম টানাপোড়েনের মধ্যে বিকল্প আয় নিয়ে ভাবতে থাকেন। একদিন চট করে মাথায় আসে ফুল চাষের কথা। প্রথমে অল্প কিছু জমিতে শুরু করেন ফুলের চাষ। প্রথম বছরই লাভের মুখ দেখেন। এ থেকে তাঁর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
পরে আরও বেশি জমিতে গোলাপ, রজনীগন্ধাসহ নানা জাতের ফুল চাষ করতে শুরু করেন। পরের বছর লাভ হয় কয়েক গুণ। ফুল বিক্রির লাভের টাকায় টিনের ঘরের জায়গায় উঠেছে আধা পাকা ভবন। গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। এভাবে ফুল চাষে তাঁর সংসারে এসেছে সচ্ছলতা।
শ্রম-ঘাম আর অবিরাম চেষ্টার জোরে সফল হওয়া এই কৃষকের নাম মোখলেছুর রহমান। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তাজনগর গ্রামে। তাঁর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে জেলার শতাধিক কৃষক ফুল চাষ করছেন। ফুল চাষে তাঁদের সংসারে এসেছে সুদিন। শুধু সাদুল্লাপুর নয়, জেলার অন্য উপজেলায় ফুল চাষকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন মোখলেছুর রহমান। আগে মানুষ শখে বাড়ির আঙিনা বা চারপাশে ফুলগাছ লাগালেও এখন জেলাজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে ফুলের চাষ।
২০১৪ সালে মোখলেছুর রহমান চার বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেন। এতে খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রথম বছরই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভ পাওয়ায় আরও কয়েক বিঘা জমিতে নানা জাতের ফুলের চাষ করতে থাকেন। প্রতিবছরই তাঁর ফুল চাষের জমির পরিমাণ বাড়ছে। বছরে তিনি শুধু ১৬ লাখ টাকার গোলাপই বিক্রি করেন। গাইবান্ধা ছাড়াও রাজশাহী, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুরে ফুল সরবরাহ করছেন তিনি। শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদে বছরে তাঁর চার লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।মোখলেছুর রহমান জানান, বিভিন্ন জাতীয় দিবসের আগে গোলাপ সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হয়। শীতের সময় গোলাপের চাহিদা বাড়ে। তখন ভালো দাম পাওয়া যায়।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিউল আলম বলেন, আগে গাইবান্ধায় মানুষ শখ করে বাড়ির আঙিনা ও চারপাশে ফুল চাষ করতেন। তখন স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ীরা ঢাকা ও যশোর থেকে ফুল কিনে আনতেন। ২০১৪ সাল থেকে সাদুল্লাপুরে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শুরু হয়। পরে জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে ফুলের চাষ শুরু হয়। এখন গাইবান্ধার ফুল শুধু স্থানীয় দোকানেই নয়, সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com