সানজিদা লিমু | বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) হলের ডাইনিংগুলোর খাবারের মান বদলে গেছে।ডাইনিংগুলোয় নেই আগের মতো জোর – জবরদস্তি, নিম্মমানের খাবার।গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ডাইনিংয়ে এই পরিবর্তন হওয়া শুরু করে। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হলের ডাইনিং সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

আগে ছাত্রলীগ থাকাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ডাইনিং এ খেতে বাধ্য করা হত, অনেকদিন আগে থেকেই অগ্রিম টোকেন রাখা লাগত, ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের ডাইনিং এর অনুন্নত মানের খাবার খেতে হতো।ক্লাস – পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে খেতে না আসতে পারলেও টাকা কেটে রেখে দেয়া হতো।
ডাইনিং ম্যানেজার বাকৃবির স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লা মাহমুদ বলেন, বর্তমানে ডাইনিং এ খেতে কাউকে জোর জবরদস্তি করা হয় না । যার যার ইচ্ছামত সে সে খেতে পারবে। কেউ যদি আগামীকাল খাবার খেতে চায় তাহলে আজ রাতের মধ্যে টোকেন সংগ্রহ করে নিতে হবে।টোকেন মূল্য দুপুরে ৫৫ টাকা এবং রাতে ৫০ টাকা।
কেউ চাইলে একবেলা ও খেতে পারবে আবার দুইবেলাও খেতে পারবে। এখন পর্যন্ত ডাইনিং নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসে নি, আশা করছি ডাইনিং ভবিষ্যতেও আরও ভালো করে চালাতে পারবো। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আশরাফুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলম মিয়া শিক্ষার্থীদের সাথে বসে খাবার খাচ্ছেন এবং খাবারের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।এ সময় প্রভোস্ট বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার সময় হলের ডাইনিংটি বন্ধ ছিল।
এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে পরামর্শ করে আমরা ডাইনিংটি পুনরায় চালু করি। এরপর থেকে বেশ কয়েকদিন আমি নিজে ডাইনিং এ এসে ছাত্রদের সাথে বসে খাবার খেয়েছি এবং একইসাথে খাবারের মান ও যাচাই করেছি। বিশেষ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। ডাইনিং এর খাবারের মানের আরো উন্নতি করত্ব কাজ করে যাব।
বাকৃবির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ বলেন, আজকে দুপুরের খাবারে ছিল ভাত, বড় সাইজের মুরগির মাংস ও আলু, সবজি এবং ডাল। খাবারের মান ও স্বাদ দুটোই আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে, মাছ – মুরগির সাইজ ও বড় হয়েছে। তাছাড়া আমরা নিজ ইচ্ছানুযায়ী টোকেন কেটে খাবার খেতে পারছি।
অনেকসময় পরীক্ষা থাকার কারণে বিভিন্ন হোটেলগুলোতে খেতে গেলে সময় অনেক নষ্ট হয়, দূরত্ব ও বেশি, খাবারের মান ও থাকে খারাপ, ডাইনিং থাকায় আমাদের আর সে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। বাকৃবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাকি মো. প্রমিজ বলেন, আমি ছয় মাস যাবত হলে আছি, শুরুর দিক থেকে আমি ডাইনিং এ খাই এবং তখন খাবারের মান খুবই বাজে ছিল।
এখন হলের ডাইনিং এ আমরা ভাল খাবার পাচ্ছি। আগেরমতো মানহীন খাবারগুলো দেয়া হয় না, খাবারের মান উন্নয়ন হওয়ায় আমরা যথেষ্ট খুশি। মাছ-মাংসের পিস যথেষ্ট বড় দেওয়া হয়, এতে আমরা সবাই সন্তুষ্ট।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com