শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির এয়ারকন্ডিশন মাটির ঘর

এ.কে.এম.মোহাম্মদ আলী, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:   |   মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৩৪৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির এয়ারকন্ডিশন মাটির ঘর
৬৭

কিশোরগঞ্জে হোসেনপুর ও আশপাশের উপজেলায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির এসি খ্যাত ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি দেয়াল ঘর। উপজেলা সর্বত্র গ্রামগুলোতে গত কয়েক বছর পূর্বেও মাটির ঘর বা দেয়াল ঘরের বাড়ি ছিল।

এসব দেয়াল ঘর/মাটির ঘরে প্রচন্ড গরমের মধ্যেও ভিতরে বেশ আরামদায়ক ও শীতল আবেশ ছিল। এর বিপরিতে শীতের দিনে ঘরে গরমের পরিবেশ ছিল। কারন হিসেবে দেখা গেছে, মাটির দেয়াল ঘর এর চতুরপাশের ওয়াল প্রায় দুই থেকে তিন ফুট পুরো ও বিশেষ পক্রিয়ায় মাটি দিয়ে প্রলেপ দেয়ার কারনে এসব ঘরে শীতের বাতাশ বা রুদ্রের তাপ সহজে প্রবেশ করতে না পারায় গরমে শীতল ও শীতে গরম অনুভূত হওয়ায় লোকজন বেশ আরামে বসবাস করেছেন।

যদিও এটি মাটি দিয়ে তৈরী তারপরও এর নির্মানশৈলী কিন্তু মোটেই সহজ নয়। প্রথমে মাটি কেটে বড় গর্তে ফেলে এটিকে দলাই মলাইয়ের পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমে পানি দিয়ে বেশ অনেকদিন কুপিয়ে কুপিয়ে মাটিকে একবারে আঠালো করে পচন পত্রিয়ার কাছাকাছি নিয়ে অনেকটা তুলতুলে মন্ডার মত করে ঘরের নিদিষ্ট মাপের মধ্যে মাটির কয়েকফুট নীচ থেকে বসিয়ে বিরতি দিয়ে ঘর বানাতেন কারিগড়রা। পরে দেয়াল সাইজ মত কেটে প্রলেপ দিয়ে এটিকে সাজিয়ে তুলতেন। বিত্তবানরা এতে বিভিন্ন নকশা করাতেন। অনেকে মাটির দু-তলাও যানাতেন। এটি অনেক কষ্টকর কাজ ছিল, তবে ঘর বানানোর মেস্তরীর চাহিদাও ছিল ব্যাপক।

এক সময় প্রায় সব শ্রেণীর লোকেরাই মাটির ঘরে বসবাস করতেন। অতি ধণাঢ্য লোকেরা টিনের চৌচালা বা চুন-সুরকি দিয়ে বানানো ঘরে বসবাস করতেন ৷ কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে এসব ঘর। বর্তমানে এর স্থানে উঠছে ইট-পাথরের দালান বাড়ী। তবে গফরগাঁও উপজেলার এখনও অনেক মাটির ঘর রয়েছে। এমনি ঘরে বাস করা জমিলা – জাহান আলী দম্পত্তি সহ অনেকে জানান, এ ঘর অনেকটা এয়ারকন্ডিশনের মত শীতে গরম থাকে ও গরমে ঠান্ডার আবেশে তারা বেশ আরামেই আছেন। প্রতি বছর মাটির সাথে ধানের তুষ দিয়ে প্রলেপ দিলে এসব ঘর অনেক বছর (৫০-৬০) বছর পর্যন্ত টিকে থাকে বলেও তারা জানিয়েছেন ৷ মাটির ঘর নির্মানেও অনেক খরচ হয় ।

বর্তমানে হোসেনপুর-গফরগাঁও সহ আশপাশের উপজেলার গ্রাম এলাকায় মাটির ঘর খুব কম দেখা যায়।  এক সময় ঘর বানানোর এ পেশায় অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে জীবন মানেরও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, ফলে মাটির ঘরের স্থানে উঠেছে বড়-বড় ইমারত। এতে করে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী প্রকৃতির এয়ারকন্ডিশনখ্যাত মাটির ঘর তবে নতুন প্রজন্ম এ মাটির ঘর সম্পর্কে কোন ধারনা নেই বললেই চলে। এবং এতে তাদের আগ্রহও নেই।

বর্তমানে আবহাওয়ার বিরুপ খামখেয়ালিপনা ও বৈচিত্রময়াতায় আমাদের দেশে প্রচন্ড দাবদাহে মরুর গরম বিরাজ করছে , এর প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকজন প্রবীন মানুষের সাথে কথা হলে তারা আক্ষেপ করে বলেন, মাটির ঘর বা দেয়াল ঘর থাকলে মানুষ বিদ্যুৎ হাড়াই দিনে রাতে ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারত। সেকান্দর নামের এক প্রবীন জানান, গ্রামে এখন অনেক বাড়ীতে এয়ারকন্ডিশন রয়েছে তবে এটি লাগালেও বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে তারা বিপাকে রয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com