মোহসীন মোহাম্মদ মাতৃক: | বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৭২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
‘রক্তের দেয়ালে কাব্যস্মৃতির রাত’ লেখক সিয়াম হাসানের লিখা বইটি এবার প্রকাশ পেয়েছে মানিকগঞ্জ বই মেলায়। ১৩-২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বই মেলাটি অনুস্ঠিত হবে মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। মেলার দারুল আজহার প্রকাশনী স্টল সহ ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরি, সাথী লাইব্রেরি, আলোর মিছিল লাইব্রেরিতে বইটি পাওয়া যাবে।

সিয়াম হাসান বলেন, নিয়মিত আমি বই লিখি। বই লিখা আমার একটা নেশা। এবারের বইটি লিখেছি পাঠক মনে যায়গা করে নিতে, আমার লিখা আমি ফুটিয়ে তুলেতে চেয়েছি এক নতুন আঙ্গিকে যাতে পাঠক সহজ বোধে বইটি পড়তে পারে। বইটি যে পড়বে সে একাধিক বার পড়তে চাইবে এমন বিষয়বস্তু নিয়ে বইটি লিখা।
পাঠক নাজমুল হাসানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বই মেলা থেকে বইটি সংগ্রহ করেছেন এবং বইটির একাংশ পড়ে তার বইটি ভাল লেগে যায় তাই তিনি বইটি ক্রয় করেছেন সেই সাথে আরও কয়েকজনকে বইটি ক্রয় করতে উৎসাহ প্রদান করেন।
সিয়াম হাসান আরও বলেন, বইটিতে আমি ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ মনে ধারণ করে লিখেছি। একদিকে লিখেছি প্রেম, অপরদিকে দ্রোহের গল্প লিখেছি। কবিতার ভেতর রয়েছে প্রেম,দ্রোহ, মানুষের পাওয়া-না পাওয়া, ব্যথা-বেদনার গল্প,খুব কাছ থেকে জীবন দর্শন। আমি আশাবাদী বইটি পড়ে পাঠক নিরাশ হবেন না এবং এই বইটি অতি দ্রুত পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠবে। প্রেম ও যুদ্ধ নিয়ে লেখার বৃথা চেষ্টা করেছি মাত্র। কবি অনেক বড় বিষয় ,আমি শুধুমাত্র আমার সরল অনুভূতিকে আপনাদের সাথে প্রকাশ করলাম মাত্র।
বই পড়তে ভীষণই পছন্দ করেন মো: আমির হামজার কাছে জিগাসা করলে তিনি বলেন, আমি নিয়মিত বই পড়ি সিয়াম হাসান আমাদের মানিকগঞ্জের একজন ক্রীতি সন্তান ও ভালো মানের লেখক তিনি কয়কেটি বই আমাদের উপহার দিয়েছেন। তিনি তার লেখনীর মধ্যে দিয়ে আমাদের মনে যায়গা করে নিয়েছেন সেই সাথে আমি তিনি সামনের দিন গুলোতে আমাদের আরও ভালো ভালো বই উপহার দিবেন।
আমার হেলেন,শোনো- “স্নিগ্ধ অনুভূতি দূর থেকেই শৈল্পিক” শীতের শেষে অথবা যেকোন বসন্তে আমার ভীষণ বাইক ট্যুর দিতে ইচ্ছে করে। গ্রীষ্মের শান্তমাখা পড়ন্ত বিকেল অথবা সন্ধ্যার কোমল বাতাস আমাকে খুব কাছে টানে।মন মাঝে মধ্যেই খুব পালাই পালাই করে,বোহেমিয়ান হতে চায়- “বোহেমিয়ানরা পথ হারায় পথের শেষে যেখানে অসংখ্য পথ এক হয়ে য থেমে।”
তখন হঠাৎ বেড়িয়ে পরি বন-বাদারে,প্রকৃতিতে খুজি অন্ধকারের দর্শন ।একবার বাইকে সিলেট থেকে ফেরার পথে,গভীর রাতে পাহাড়ী বনের মধ্যে ঝড়ের কবলে পড়লাম,রাস্তার সব প্রান্তে তাকিয়ে জুরাসিক পার্কের দৃশ্যের মতো মনে হয়েছিলো।ভয়টা অবশ্য উপভোগও করেছিলাম।সুন্দর যেমন স্নিগ্ধ,তেমনই মাঝে মাঝে অদ্ভত ভয়ঙ্কর,সেটা প্রকৃতির সাথেও হতে পারে আবার মানুষের জীবনেও আসতে পারে।
“যে রঙ আপনার ঠোঁট ছুয়ে দেবে, দেবে মেখে আলতা পায়ে, যে রঙ সলতে পুড়িয়ে দেবে এঁকে কাজল চোখে”
কষ্টের তীব্রতা শেষে নতুন ভোরের নতুন শ্লোগান। হে বৈষম্য বিরোধী শহীদ বীর তোমাদের জন্য শুভ্র গোলাপের গালিচা,মিনারের বিনম্র শ্রদ্ধা,ভালোবাসা ওঁ সালাম।আবু সাঈদ,একটি বিপ্লবের ধ্বনি,একটি জাতির মুখপাঠ। যারা যুগে যুগে রক্ত ঝরায়, দেশ, মাটি ও বৈষম্য দূর করতে মজলুমের পক্ষে ও জালিমের বিপক্ষে আমি সবসময় তাদের দলে।
ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে বলছি প্রয়োজনে,আবার শ্লোগান হবে–,’’মেধা না কোটা, মেধা,মেধা’’।
যদি আবার চারদিক দুর্নীতির ঘ্রাণে রুদ্ধশ্বাস হয় তবে আবার জাতির মুখোশ উন্মোচিত করা হবে বিশ্বের কাছে।তখন সমস্বরে বলবো- ভেঙে ফেল ওই পোড়া মাটির দালান,পুড়ে ফেল ওই দাবার কোট,ছিড়ে ফেল ঐ অত্যাচারীর পাষাণবেদি,পড় বিদ্রোহী।
“হয় তো একদিন মিছিল হবে কবিতায় সুন্দর শব্দের প্রাপ্যতা তা আর ভুল গাথুনীর সিনটেক্স নিয়ে।
হয়তো একদিন প্রশ্নবিদ্ধ হবে ,কবিত্বে বিশাল আকাশের মাঝে নক্ষত্র হিসেবে দাবি করার মতো এত বড় দুঃসাহস আমার নেই আর কবি হিসেবে তো প্রশ্নই উঠে না।নিজেকে অতি ক্ষুদ্র মনে হয় যখন বড় বড় মানুষের ভীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলি অস্তিত্বের বিপরীতে।নিজেকে মহাসমুদ্রের মাঝে মজা পুকুর ভাবতেই ভালোবাসি। কিছু দু:খেরা কবিতা হয়ে কথা বলে। কবিতা কখনো আকাশ ছোঁয়,কখনো পাহাড়,কখনও হ্রদ,কখনও উপ্যতাকা, কখনও মেঘ ,কখনও মন।কখনো মনে মনে বলে উঠে আমার নিঃশব্দতাই তোমাকে ,ভাসিয়ে দিতে পারত,অনাদ্র মরুর বুকে।
কেউ ভেবেছিল আমি কুয়াশা অথবা ধোঁয়াশার ভীরে হারিয়ে যাব তাকে বলছি আমি ঈগলের সাথে দেব পাল্লা ,ছাড়িয়ে যাব মেঘমালা। কবিতার শহরে অভাব, দুঃখ, দুর্দশা ,ক্লেদ আর ক্ষুধার্তের মিছিল! সেখানে কবি নির্লজ্জ, আপন স্বভাবে লিখে যান ব্যাথা,বেদনা আর না পাওয়ার গল্প।যারা এখনো হতাশ তাদের বা লুজারদের উদ্দেশ্যে বলছি- “ সরল সতেজ নিঃশ্বাসে
চায়ের কড়া ধোঁয়ার ঘ্রাণে পাউরুটি ডুবিয়ে ভুলে যাই
এক বিষাদ পৃথিবী বলে কিছু নেই। আমার জানার, বোঝার, শব্দের দূরত্ব অতি সল্প। পড়তে খুব ভালোবাসি তা চিরতার মতো হলেও আপত্তি নেই। তবে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণেই হয়তো অনেক দূর ভাবতে পারি না, তবে ভাবতে চেষ্টা করি।
নানার ধরনের গল্প ও কবিতার সমারহে বইটি ভরপুর।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com