নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৩৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি অমান্যের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীতে কার্যরত বেসরকারি সংস্থা ‘আশা (ASA)’-এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বুধবার থেকে টানা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন।
পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এদিন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সব অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়, জরুরি সেবাসমূহ ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়। সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত আশা এনজিও’র একাধিক ব্রাঞ্চে সরকারি ছুটি ও রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষা করে অফিস কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। বোয়ালিয়া, লক্ষীপুর, হরিপুর, রাজপাড়া ও সাহেব বাজার ব্রাঞ্চে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি।
কোথাও কালো পতাকাও উত্তোলন করা হয়নি। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, শোক দিবসের দিনেই কয়েকটি ব্রাঞ্চে পিকনিক ও আনন্দ আয়োজন করা হয়। পুলিশের বাধায় লক্ষীপুর ব্রাঞ্চের পিকনিক বন্ধ করা হয় বলে জানা গেছে। বোয়ালিয়া ব্রাঞ্চে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের প্রধান দরজা বন্ধ রেখে ভেতরে ১৫–২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা আমার জানা নেই।” পরে তাৎক্ষণিকভাবে পিয়নকে ডেকে পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
শোক দিবস অবমাননার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে আশা এনজিও রাজশাহী ডিভিশনের ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, “আজ বিশেষ দিন, সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে।” কিন্তু সরকারি আদেশ জানা সত্ত্বেও অফিস চালু রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘বছরের শেষ দিনের হিসাবনিকাশ’ যুক্তি দেখান এবং পরে ফোন কেটে দেন।
রাজশাহী ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার (ডিএম) লতিফ বলেন, “হেড অফিস থেকে ছুটির নোটিশ দেওয়া হয়েছে।” তবে কার্যক্রম চালু থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। সদর এরিয়া ম্যানেজার মিজান একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আঃ মতিনকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষীপুর ব্রাঞ্চে পুলিশ টিম পাঠান।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসে থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, “আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি অমান্য করে আশা এনজিও যে কার্যক্রম চালিয়েছে, তা সরকারি আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।” তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সবুর আলী বলেন, “আশা এনজিও যদি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com