তাজ মাহমুদ | বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৪৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
৯ অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ১০ঃ০০ টায় ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকার ভুক্তভোগীরা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলিগের ছত্র ছায়ায়, দীর্ঘদিন যাবত সাধারন মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন এসকল ভূমি খেকোরা।
রেহায় পায়নি প্রশাসনে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। ভুয়া জালজালিয়াতি, ছুট কবুলিয়ত করে সাধারন মানুষের দখলে থাকা জায়গাজমি হাতিয়ে নিয়েছ চক্রটি। অসহায় ভিটা বাড়ি ছেড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে অনেকেই। কিছু হলেই মামলা হামলা সহ আরো নানা কিছু ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করে তারা।
এই চিত্রটি ফুটেছে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। সবচাইতে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে লংগদু সদরের বাইট্টাপাড়া ও আটারকছড়া ইউনিয়নে। এছাড়াও বগাচতর, গুলশাখালী এবং কালাপাকুজ্জাতেও কম নয়। তবে চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আছে উপজেলার বাইট্টাপাড়াতে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসের সামনে ভুক্তভোগীরা উপজেলার ভূমি খেকো আব্দুল মালেক গং, জাকির মোল্লা, হারুন, ইসলাম, ইকবাল খন্দকার, জামাল, সালাম মেম্বার ওরফে সালাম খা, লাট মিয়া,তৈয়ব আলী, কালাম, সরোয়ার, সেলম ও জিয়া মেম্বারসহ তেরো জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, দির্ঘদিন যাবত এই মালেক গং উপজেলার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারদের সাথে লেয়াজো করে সাধারন মানুষের জায়গা জমি হাতিয়ে নিয়েছে এবং এখনো নিচ্ছে। কিছুদিন আগেও আমাদের উপজেলার গর্ব, আমাদের অহংকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত একজন অফিসারের বিরুদ্ধে মালেক মামলা করে দেয়। তাহলে আমরা সাধারন মানুষ আমাদের কি না করতে পারে তারা, সাধারন মানুষের এটা চিন্তার বিষয়।
বাইট্টাপাড়া এলাকার আব্দুল করিম জানান, মালেকের চক্রটি অনেক বড়, তারা সরকারের পতনের পরেও এক্টিভ। তারা রাতের আধারে লংগদু উপজেলার ভুমি অফিসে কর্মরত বর্তমান সার্ভেয়ারের অফিসে বসে মিটিং করে কেমনে ও কিভাবে মানুষের জায়গা জমি হাতিয়ে নিয়ে জবরদখল করা যায়। পরে বিভিন্ন ইউনিয়নের দালালদের মাধ্যমে সুট কবুলিয়ত, এই সেই দেখিয়ে জমিগুলো নিজের নামে করে নিচ্ছে অথবা মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
আমার নিজের কাগজের জায়গায় তারা ভুয়া কাগজ করে আমাকে সহ আমার ভাইদের জেল হাজতে পাঠায়। এই মামলার জন্য আমি সহ আমার ভাইদের চাকুরী হয়নি। আমি আমরা মালেক সহ জড়িত সকলের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তিনটিলা এলাকার নিরময় চাকমা বলেন, এই মালেক গং এর কারণে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। তার বাবা মারা গেছে অনেক আগে, কিন্তু ২০১৪ /২০১৫ সালে তার বাবার নামে সুট কবুলিয়ত করে।
তিনি কাউকে ছাড় দিচ্ছেনা। তার এসকল কর্মকান্ডের বিচারের দাবী জানিয়ে স্মারক লিপি দিয়েছি। আশাকরি প্রশাসন খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নিবেন। না হয় এভাবে চলতে থাকলে এখানে সাম্প্রদায়িক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। মালেক সহ জাকির মোল্লারা আমাদের পাহাড়িদেরও নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। উক্ত মানববন্ধনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করে ভুক্তভোগীরা। একই সাথে লংগদু থানা ও লংগদু সেনা জোনে স্মারক লিপির অনুলিপি প্রদান করে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com