আনোয়ার হোসেন | শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গরুর লাম্পি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ। এ নিয়ে গরু পালনকারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। তাই ভাইরাসজনিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ জানান, গরুর লাম্পি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ। এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয় এবং খাবারের রুচি কমে যায়। জ্বর বেশি হলে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়, পা ও গলা ফুলে যায়।
আক্রান্ত গরুর বুকের নিচে দুই পায়ের মাঝে পানি জমে। গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় গুটি গুটি ক্ষত হয় এবং পচন ধরে। সেই সঙ্গে চামড়া থেকে লোম উঠে যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করলে এ রোগে আক্রান্ত পশুর সুস্থ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। বড় গরু লাম্পি স্কিন রোগে তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও বাছুর–গরু আক্রান্ত হলে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।
লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্যারাসিটামল ও সর্দি থাকলে হিস্টাসিনজাতীয় ওষুধ খাওয়ানোর চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। বসন্তের (পক্স) একটি জাত ভাইরাসের মাধ্যমে রোগটি ছড়াচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ রোগ সারাতে কার্যকর কোনো ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। মশা, মাছি, ডাশজাতীয় রক্ত খায় এমন পতঙ্গের মাধ্যমে এক গরু থেকে আরেক গরুতে এই রোগ ছড়ায়।
রোগটা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, এ জন্য আমরা খামারি ও কৃষকদের গরুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা ও মশা, মাছি ও ডাশের কামড় থেকে রেহাই পেতে মশারি ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া গরুতে লাম্পি স্কিন রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পশু হাসপাতালে নিতে বলছি।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে রোগটা শতভাগ সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ এই রোগ প্রতিরোধে, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক করাসহ ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটরদের মাধ্যমে খামারি ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com