শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

হাটোত ম্যালা গরু-ছাগোল উঠচে খালি ঘুরিফিরি দ্যাকে

আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৩২৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হাটোত ম্যালা গরু-ছাগোল উঠচে খালি ঘুরিফিরি দ্যাকে
১১

‘এই দ্যাকেন, কুরবানির হাটোত ম্যালা গরু-ছাগোল উঠচে। সগলে (ক্রেতারা) খালি ঘুরিফিরি দ্যাকে, দাম শুনচে কেউ কিনচে না। কেউ দাম কলেও সে দাম খুব কম। গরু বেচা নিয়া হামরা বিপোদোত আচি। বেলা তিনটের সমায় চারটে গরু নিয়া হাটোত আচ্চি, আত আটটাতও বেচা হয় নাই। কি করি এখন গরু নিয়া বাড়িত যাচ্চি।’

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দারিয়াপুর হাটে আলাপকালে খামারি মোনারুল মিয়া (৫৫) এ কথা বলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার তুলসীঘাট গ্রামে।

মোনারুল আট বছর ধরে গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করে আসছেন। প্রতিটি ছোট আকারের গরু ৩৫ হাজার টাকায় কেনেন। তা লালন-পালন করে চার মাস পরপর বিক্রি করেন। খরচ বাদে তাঁর মাসিক আয় ৪০-৪৫ হাজার টাকা। এ বছর কোরবানির ঈদে বেশি লাভের আশায় পাঁচ মাস ধরে চারটি গরু বিক্রি করেননি। গত মঙ্গলবার দারিয়াপুর পশুর হাটে চারটি গরু বিক্রি করতে এনেছিলেন। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় বিক্রি করতে পারেননি। কারণ, হাটে গরু বেশি, ক্রেতা কম।

গাইবান্ধা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে দারিয়াপুর পশুর হাট। গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই হাটে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে অসংখ্য গরু-ছাগল তোলা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে। খামারিরা গরু-ছাগল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দুই-একজন করে এসে দরদাম করছেন। হাট-ইজারাদার জামাল মিয়া বললেন, ঈদ ঘনিয়ে এলে বেচাকেনা বাড়বে।

এদিকে, গত বুধবার দুপুরে একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর হাটে গিয়ে অনেক গরু দেখা যায়। হাটে আসা একই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের খামারি আবদুস সামাদ বললেন, ‘আশায় আচনো, এবারক্যা ইদোত গরু বেচি বেশি নাব করমো। বউ-ছোলোক নয়া কাপড়া কিনি দেমো। কুরবানি করমো। কিনতো কেনার নোক নাই।’

পাশের চাপাদহ গ্রামের খামারি হায়দার আলী বলেন, কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ করে পোষায় না। তাই দুই বছর ধরে গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করছেন। দিনমজুর সুমন মিয়া (৪০) বলেন, ঋণ নিয়ে ছয় মাস আগে দুটি গরু কিনেছেন। ঈদের আগে বিক্রি করে যে লাভ হবে, তা দিয়ে দায়দেনা মেটাবেন। কিন্তু হাটে ক্রেতা কম। গরু বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধায় কোরবানির জন্য প্রায় দেড় লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এবার জেলার গবাদিপশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে হাটবাজারে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে অন্য বছরের চেয়ে বেচাকেনা কম। জেলার সাতটি উপজেলায় কোরবানির স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে হাট বসেছে ৪১টি। জেলায় খামার সংখ্যা ১৭ হাজার ৩৬৮। এসব খামার ও কৃষকের কাছে কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, মহিষসহ মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭ গবাদিপশু প্রস্তুত আছে। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ২৬ হাজার ৩০৫টি। চাহিদা পূরণ করেও উদ্বৃত্ত থাকবে ৬৯ হাজার ৯৭২টি পশু। খামারিদের ভাষ্য, এ বছর হাটে গরুর আমদানি বেশি। সে অনুপাতে ক্রেতা কম। ফলে গরু, ছাগল বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, খামারি ও পশু বিক্রেতাদের সহায়তা করতে অনলাইনে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগ্রহী বিক্রেতারা যোগাযোগ করছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com