শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ভ্রমন কাহিনি ১২০০কিমি ট্রেন ভ্রমন এবং একজন মোহাব্বত সাহেব

এস এম নওশের   |   বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৬৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভ্রমন কাহিনি ১২০০কিমি ট্রেন ভ্রমন এবং একজন মোহাব্বত সাহেব
১১

দেশের চলমান আন্দোলন এবং অস্থিরতা ও সহিংসতার জন্যে বেশ কিছু দিন ঘরে বসা।বাসা হাসপাতাল চেম্বার ছাড়া কোথাও ই যাইনি।বেশ দম বন্ধ লাগছিল।রেল এপে দেখলাম নেক্সট দুদিন পর ট্রেনের টিকিট কোন টা এভাইলাবল দেখাচ্ছে।দেখলাম বেনাপোল এক্সপ্রেসের ঢাকা বেনাপোল এর সীট খালি দেখাচ্ছে।

 

বেনাপোল আগে গেছি তবে বাসে।ট্রেনে যাওয়া হয়নি।তাহলে যাই ট্রেনে কেমন লাগে গিয়ে দেখি। আরে বেনাপোল থেকে তো মংলা কমিউটার নামে সম্প্রতি ট্রেন চালু হয়েছে মংলা যাবার।এর টাইমিং টা দেখলান বেনাপোল এক্সপ্রেস পউছানোর ঘন্টা দুয়েক পরেই।ভালই হল এটার অভিজ্ঞতাও নেয়া যাবে এর পর মংলা ঘুরে বাসে ঢাকা চলে আসব।

এই ঠিক করলাম।এরমাঝেই অনলাইনে নিউরোপ্লাস্টিসিটির উপরে আমি একটা কোর্স করেছিলাম।সেটার কো অর্ডিনেটর হিসেবে মি মোহাব্বত সাহেবের সাথে অনলাইনেই পরিচয়।জানা গেল উনি খুলনা থাকেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই।উনাকে মেসেজ দিলাম আমি ৯ তারিখ মংলায় আসছি।আপনি যদি সময় দিতে পারেন তাহলে বিকেলে খুলনায় আসব বিকেল সন্ধ্যাটা আপনার সাথে কাটাতে চাই গল্প করে।উনি ইতিবাচক উত্তর দিলেন।

আমি আমার ভ্রমনের সুচিটা একটু চেঞ্জ করলাম।মংলা কমুটারে মংলা গিয়ে সেই ট্রেনের ই ফিরতি যাত্রায় আমি।খুলনা আসব।খুলনা ঢাকার রাতের সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকিট ও এভেলাবল পেয়ে গেলাম।ফলে এবারের ভ্রমন টা আমি রেখেছিলাম শুধুই লম্বা ট্রেন জার্নির আনন্দ নেয়া এবং মোহাব্বত সাহেবের সাথে সাক্ষাতে আলাপ করা।

কাটায় কাটায় রাত ১১.৪৫ এ ই বেনাপোল এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছাড়ল।বর্তমানে ট্রেন টি পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করে।দেখলাম মুটা মুটি বেশ টাইম মতই এগিয়ে যাচ্ছে।যাই হোক শেষ পর্যন্ত বিশ মিনিট লেটে ট্রেন টা বেনাপোল পৌছাল। এই স্টেশনের এক কিমি দুরেই সীমান্ত। একটা অটো নিয়ে সীমান্তে গেলান কিছু ছবি তুলতে।

এই সীমান্ত আনার অপরিচিত নয়।এটা পার হয়ে কয়েকবার ই কোলকাতা গেছি।সীমান্ত থেকে ফিরে স্টেশনে ফিরে আসার একটু পরেই মংলা কমিউটার চলে এলো।ট্রেন সদ্য চালু হলেও বগি একেবারেই পুরানো।তিন ঘন্টা লাগল মংলা আসতে।লেট এক ঘন্টা।এই ট্রেনেই আবার ফিরতি যাত্রায় নেমে গেলাম খুলনার নতুন স্টেশন মোহাম্মদ নগর।

স্থানীয়দের থেকে শুনলাম এই এলাকার নাম ছিল কৃষ্ণ নগর) ইতিমধ্যেই মংলা থাকতেই মোহাব্বত সাহেব কে জানিয়ে দিয়েছিলাম আমি খুলনা ভার্সিটি আসব।এসে ফোন দিব উনাকে। খুলনায় নেমে দেখি প্রচন্ড রোদ।অটো তে চলে এলাম গল্লামারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।এখানে গেটের পাশেই বংগবন্ধুর বিশাল ম্যুরাল যা কিনা একেবারেই অক্ষত।ভালো লাগল দেখে।জোহরের নামাজ পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মসজিদে বসে ফোন দিয়ে উনাকে জানিয়ে দিলাম আমার অবস্থান।

মসজিদের শান্ত স্নিগ্ধ নীরব পরিবেশ টা এত ভাল লেগেছিল যে কখন দু চোখের পাতা লেগে গেল টের ই পাইনি।চোখ যখন খুললাম তখন দেখি আমার পাশে বসে আছেন সৌম্য চেহারার এক ভদ্রলোক।ঠোটে স্মিত হাসি।আমিও হাসলাম লজ্জিত হাসি।কারন উনি এসে আমার ঘুম ভাংগার অপেক্ষায় বসে ছিলেন।ছি ছি।উনাকে সরি বলায় আবারো হাসলেন।এই হাসিতে ছিল স্নেহ মিশ্রিত অভয়।উনার সাথে বেশ গল্প হল।

উনার চিন্তা চেতনার সাথে পরিচিত হলাম।উনার বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার এবং শিক্ষানুরাগকেও জানা হল।অবাক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম এই পর্যন্ত উনি পাচ টা বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন।উনারা এদেশে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্যে কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন।

উনার সাথে কথা বলেই জানা গেলে বিগত সরকারের সময় উনার উপরে দমন নিপীড়ন এবং জীবন নাশের আশংকার কথা।উনি নিয়ে গেলেন খুলনা শহরে একটা চমৎকার রেস্তোরায়।গরম গরম নান রুটি কাবাব খেলাম।আমি সবিনয়ে বিল টা নিজে দেবার অনুরোধ করলাম কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ রাখলেন না।

আমি অবাক হলাম সেদিন উনার ঢাজায় আসবার কথা।শুধু আমি উনার সাথে দেখা করতে চেয়েছি শুধু এ কারনেই উনি খুলনায় রয়ে গেছেন।এরপর উনি আমাকে একটা মিস্টির দোকানের সামনে নামিয়ে বিদায় নিলেন।আমি বাচ্চাদের জন্যে দই মিস্টি সন্দেস কিনে খুলনা রেল স্টেশন রওনা দিলাম।যথা সময়েই ট্রেন ছেড়ে দিল।ঢাকায় এসে পুর্ন হল একদিনে আমার ১২০০ কিমি রেল ভ্রমন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com